Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফের শিরোনামে উঠে এলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (Cockroach Janta Party)। বিতর্ক, সমালোচনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে তিনি ঘোষণা করেছেন যে খুব শীঘ্রই ভারতে ফিরছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য, নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো করা। সোমবার নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ জানান, দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের আপস করা যাবে না। তাঁর মতে, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান (Cockroach Janta Party)
ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপক স্পষ্টভাবে বলেন, “ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে আমাদের সকলের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমাদের আওয়াজ তোলার সময় এসে গিয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এত বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরেও যদি শিক্ষামন্ত্রী নিজের পদে বহাল থাকেন, তাহলে দেশের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে। তাঁর মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে এমন ঘটনা দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পরিশ্রমকে অপমান করে।
৫ জুন দিল্লিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা (Cockroach Janta Party)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৫ জুন দিল্লিতে পৌঁছবেন অভিজিৎ দীপক। সেখানে পৌঁছেই তিনি রাজধানীর যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাইবেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থকদের নয়, দেশের ছাত্রছাত্রী, গবেষক, চাকরিপ্রার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের সকলকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং শিক্ষার স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের লড়াই।

সামাজিক মাধ্যমের নতুন আলোড়ন (Cockroach Janta Party)
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে অন্যতম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। যদিও এটি এখনও পর্যন্ত কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও সামাজিক মাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাগত এবং প্রশাসনিক ইস্যু নিয়ে ধারাবাহিক পোস্টের মাধ্যমে এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর প্রভাব লক্ষণীয়।
বিজেপিকে কটাক্ষ অভিজিতের (Cockroach Janta Party)
নিজের জনপ্রিয়তা এবং সিজেপির দ্রুত উত্থান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিজিৎ দীপক বিজেপিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, “বিজেপি নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তাদের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে আমাদের মাত্র চার দিন সময় লেগেছে।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে এটিকে বাড়াবাড়ি দাবি বলেও সমালোচনা করেছেন।

হঠাৎ উধাও সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট
তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে তখনই, যখন দেখা যায় ককরোচ জনতা পার্টির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় জল্পনা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি (ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো)-র সুপারিশের ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্টটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, ওই অ্যাকাউন্টটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুললেন প্রতিষ্ঠাতা (Cockroach Janta Party)
অন্যদিকে অভিজিৎ দীপক এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য, ঘৃণামূলক মন্তব্য বা আইনবিরোধী প্রচার করা হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “যদি আমরা শুধুমাত্র সামাজিক সমস্যা, শিক্ষার সংকট এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলে থাকি, তাহলে কেন আমাদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল অধিকারের প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
আরও পড়ুন: Rituparno Ghosh: বাংলা সিনেমার পর্দায় নারীর যন্ত্রণা ‘বাড়িওয়ালি’ থেকে ‘উত্তরা’র বেঁধে
রাজনৈতিক বিতর্ক নাকি ছাত্রস্বার্থের আন্দোলন?
অভিজিৎ দীপকের ঘোষিত আন্দোলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি নিট কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছে, এই আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তবে সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিষয় স্পষ্ট নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আর সেই প্রশ্নের জবাব চাইতেই দেশে ফিরছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।



