Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৫ই আগস্ট, স্বাধীনতা দিবস—সারা দেশজুড়ে দেশপ্রেম আর উৎসবের আবহ (15th August)। তবে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত মল্লিকপুর গ্রামে এই দিনটি পরিণত হল গভীর শোকে। শুক্রবার সকালে পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক প্রবীণ শিক্ষক। মৃতের নাম মনোয়ার হোসেন (বয়স ৬২), বাড়ি হাড়োয়া থানার বকজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝিকরা গ্রামে। তিনি এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলেন।
প্রাক মুহূর্তে কি ঘটেছিল (15th August)
খবর সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রায় ছ’টার সময় মনোয়ার হোসেন নিজেই স্কুলে উপস্থিত হন (15th August)। স্কুল চত্বর সাজানো, পতাকা স্থাপন ও অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ তিনি বরাবরের মতো নিজ হাতে করতে ভালবাসতেন। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পতাকা উত্তোলনের জন্য একটি লম্বা লোহার পাইপ স্কুলের সামনের মাটিতে বসানো হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই পাইপের ঠিক উপরের দিক দিয়েই গিয়েছিল একটি হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের তার।
পাইপ ঠিকভাবে বসানোর জন্য মনোয়ার হোসেন যখন সেটিকে সামঞ্জস্য করছিলেন, তখন অসাবধানতাবশত লোহার পাইপের মাথা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো পাইপে প্রবাহিত হয় বিদ্যুৎ, এবং তীব্র শকে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা (15th August)
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন গ্রামবাসী প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়েন। তাদের চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে এক প্রিয় শিক্ষক এমনভাবে লুটিয়ে পড়বেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে সবাই ছুটে গিয়ে মনোয়ারকে কোনোমতে পাইপ থেকে দূরে সরিয়ে নেন।
তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি আর বেঁচে নেই। খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
শোকের রূপান্তর (15th August)
যেখানে চারপাশে সকাল থেকে শিশুদের দেশাত্মবোধক গান, স্কুলের সাজসজ্জা, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা—সেখানে হঠাৎই নেমে এল মৃত্যুর শীতল ছায়া। আনন্দঘন সকাল মুহূর্তে পরিণত হল কান্নার রোল ও শোকের আবহে। স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি দিনে এমন একটি প্রাণহানি সবার মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence: প্রযুক্তি চালনা করছে না তো মানুষকে?
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—উৎসব বা জনসমাগমের আগে বিদ্যুৎবিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়? যদি বিদ্যুতের তারটি আগে থেকেই স্থানান্তর করা হতো অথবা সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে হয়তো মনোয়ার হোসেন আজও বেঁচে থাকতেন এবং তিনি নিজেই পতাকা উত্তোলন করে শিশুদের নিয়ে আনন্দ করতেন।


