Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফিটনেস ও ডায়েটের জগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ট্রেন্ড এসে হাজির হচ্ছে (Healthy diet)। কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করছেন, কেউ লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করছেন, আবার কেউ হাই-প্রোটিন ডায়েটে ভরসা রাখছেন। এর মাঝেই সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে এক নতুন খাদ্যাভ্যাসের নাম— নো অয়েল ডায়েট। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এই ডায়েটে রান্নার সময় একেবারেই তেল ব্যবহার করা হয় না।
ভারতীয় রান্নার সঙ্গে তেল-মশলার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ভাজা-পোড়া, ঝাল-মশলাদার তরকারি, এমনকি সাধারণ ডাল-ভাতেও আমরা কিছুটা হলেও তেল ব্যবহার করি। তাই হঠাৎ করে একেবারেই তেল ছেড়ে দেওয়া অনেকের কাছেই দুঃসাধ্য। তবে অনেকে আবার ওজন কমানো, সুগার বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ধরনের ডায়েট অনুসরণ করতে চাইছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তেল ছাড়া এক মাস কাটালে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে? সত্যিই কি এটি স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত?
শরীরে তেলের ভূমিকা (Healthy diet)
- শরীরে শক্তি জোগায়।
- ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষণে সাহায্য করে।
- হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ত্বক ও চুলকে সুস্থ রাখে।
- মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মত (Healthy diet)
প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ শিখা গুপ্তা এই বিষয়ে জানান— তেলের দুটি ধরন আছে।
প্রাকৃতিক তেল: যা আমরা বাদাম, আখরোট (Healthy diet), চিনাবাদাম, বীজ বা অ্যাভোকাডোর মতো খাবার থেকে পাই। এগুলি শরীরের জন্য উপকারী চর্বি সরবরাহ করে।
পরিশোধিত তেল: যা বেশি ব্যবহৃত হলে হৃদ্রোগ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাঁর মতে, আপনি যদি রান্নায় পরিশোধিত তেল ব্যবহার বন্ধ করে দেন, তবে সমস্যা নেই— তবে শর্ত হচ্ছে প্রতিদিন বাদাম, বীজ, বা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পর্যাপ্ত ফ্যাট পেতে হবে। সেক্ষেত্রে শরীরে তেলের ঘাটতি হবে না।
এক মাস তেল ছাড়া খেলে কী হতে পারে? (Healthy diet)
প্রথম সপ্তাহে:
- শরীর হালকা লাগবে।
- হজমের উন্নতি হতে পারে।
- অল্প ওজন কমতে পারে।
দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে:
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
- শক্তির অভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
- মনোযোগ কমে যেতে পারে, কারণ মস্তিষ্কের জন্য ফ্যাট দরকার।
এক মাস শেষে:
- শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সমস্যা শুরু হতে পারে।
- হরমোনাল ইমব্যালান্সের ঝুঁকি বাড়ে।
- চুল ঝরতে শুরু করতে পারে এবং নখ দুর্বল হয়ে যায়।
তাহলে সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একেবারে তেল বাদ দেওয়ার বদলে সীমিত ও স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করাই সঠিক পদ্ধতি। অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা নারকেল তেল পরিমাণমতো ব্যবহার করা যেতে পারে। বাদাম, বীজ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি প্রাকৃতিক ফ্যাটের উৎস প্রতিদিন খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
আরও পড়ুন: Ballygunge: আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি?
নো অয়েল ডায়েট ট্রেন্ডি হলেও এটি দীর্ঘদিন অনুসরণ করা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। শরীরের জন্য সীমিত পরিমাণে ভালো তেল অপরিহার্য। চাইলে সপ্তাহখানেক চেষ্টা করে শরীরে কী পরিবর্তন হয় দেখে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মাসের পর মাস একেবারে তেল বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং ‘নো অয়েল’ নয়, ‘রাইট অয়েল ইন রাইট অ্যামাউন্ট’ হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর ডায়েটের মূলমন্ত্র।


