Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং পরিকাঠামোগত দিক থেকে অত্যাধুনিক মেট্রো স্টেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ‘জয় হিন্দ’ মেট্রো স্টেশন(Jai Hind Metro)। কলকাতা বিমানবন্দরের ঠিক নিচেই নির্মিত হয়েছে এই বিস্ময়কর স্টেশনটি, যার বিস্তৃতি প্রায় ১৪,৬৪৫ বর্গমিটার। মাটি থেকে প্রায় ১৪ মিটার নীচে অবস্থিত এই স্টেশনকে ঘিরে এখন আশা এবং উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কলকাতাবাসী ও যাত্রীদের মধ্যে।
মেট্রো স্টেশনে ৫টি প্ল্যাটফর্ম, ৭টি লাইন(Jai Hind Metro)
‘জয় হিন্দ’ মেট্রো(Jai Hind Metro) স্টেশনে রয়েছে মোট ৫টি প্ল্যাটফর্ম, প্রত্যেকটি ১৮০ মিটার দীর্ঘ। যদিও এখন প্রাথমিকভাবে ১ এবং ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে পুরো হলুদ লাইন চালু হলে বাকি তিনটি প্ল্যাটফর্মও পরিষেবায় আনা হবে। এছাড়াও, তৈরি হয়েছে ৪৮ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল ইয়ার্ড, যা দেশের মধ্যে বৃহত্তম, এবং এখানে থাকবে ৭টি পৃথক লাইন। এই ইয়ার্ড মূলত ট্রেন পার্কিং ও টার্নিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে, যা মেট্রো চলাচলকে আরও দ্রুত ও নিয়মিত করে তুলবে।
ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘জয় হিন্দ’(Jai Hind Metro)
মেট্রো স্টেশনটির সঙ্গে বিমানবন্দর ও যশোর রোডের সংযোগ রক্ষায় নির্মিত হয়েছে দুটি পৃথক সাবওয়ে।
বিমানবন্দরের দিকের সাবওয়ে: ৩৩০ মিটার লম্বা ও ১১ মিটার চওড়া, যেখানে থাকছে ৩টি সিঁড়ি, ৪টি লিফট এবং ৬টি এসক্যালেটর।

যশোর রোডের দিকের সাবওয়ে: ২৭০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার চওড়া, যেখানে থাকছে ২টি সিঁড়ি, ২টি লিফট ও ৩টি এসক্যালেটর।
পুরো স্টেশনে রয়েছে ৬টি সিঁড়ি, ৬টি লিফট ও ৯টি চলমান সিঁড়ি (এসক্যালেটর), যা যাত্রীদের চলাফেরাকে সুবিধাজনক করে তুলবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্যও থাকছে পূর্ণ সুবিধা।

আরও পড়ুন: Migrant Worker: বাংলা শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুপারিশ, কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠালেন রাজ্যপাল
৫টি গেট, বিভিন্ন দিক থেকে প্রবেশের সুযোগ
‘জয় হিন্দ’ মেট্রো স্টেশনে রয়েছে মোট ৫টি প্রবেশ ও প্রস্থান গেট—
১ নম্বর গেট: সরাসরি বিমানবন্দরের প্রবেশপথের মুখে।
২ নম্বর গেট: ট্যাক্সি পার্কিং স্ট্যান্ডের কাছে।
৫ নম্বর গেট: যশোর রোডের একদম নিকটবর্তী, যেখানে বাস থেকে নেমেই সাবওয়ে ব্যবহার করে সহজে মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ সম্ভব।

আরও পড়ুন: World Photography Day: ছবিপ্রেমীদের ভিড় কলকাতায় “ফটোগ্রাফিয়া ২০২৫”
৩ ও ৪ নম্বর গেট: আড়াই নম্বর গেট ও পুলিশ ব্যারাকের দিক বরাবর।
কমিশনারের ছাড়পত্র, মেট্রো চলাচল শুরুর অপেক্ষা(Jai Hind Metro)
নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৭.০৪ কিমি অংশে ইতিমধ্যেই কাজ শেষ হয়েছে। নোয়াপাড়া – দমদম ক্যান্টনমেন্ট (২.৮৪ কিমি) এবং দমদম ক্যান্টনমেন্ট – বিমানবন্দর (৪.২০ কিমি) রুটে পরিদর্শন করে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি ছাড়পত্র দিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো চলাচল শুরু হবে, যা যাত্রীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। সম্পূর্ণ হলুদ লাইন চালু হলে এই করিডোরে আরও ১২.৭৭ কিমি ভূগর্ভস্থ ও ৫.৩৬ কিমি উঁচু অংশে মেট্রো চলবে।


