Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভাদ্র মাসের শেষভাগে বিশ্বকর্মা পূজো হয় (Vishwakarma Puja)। আজ সকাল থেকে সমস্ত কলকারখানা যন্ত্রপাতি যানবাহনে পূজা হচ্ছে। বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্পী, যিনি দেবতাদের জন্য নানা রকম যন্ত্রপাতি, প্রাসাদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং এমনকি রথও নির্মাণ করেছিলেন। কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে শিল্প-কারখানা, কারিগর, ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক এবং শ্রমজীবী মানুষের কাছে এই পুজো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনকে দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরুর দিন হিসেবেও মানা হয়।

ঘুড়ি ওড়ানোর উৎস কোথায়? (Vishwakarma Puja)
পৌরাণিক কাহিনি বলছে, বিশ্বকর্মা একবার দেবতাদের জন্য একটি উড়ন্ত রথ তৈরি করেছিলেন। দেবশিল্পীর সেই বিস্ময়কর সৃষ্টির স্মরণে বিশ্বকর্মা পূজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা চালু হয়। ঘুড়ি উড্ডয়ন আসলে দেবশিল্পীর কারিগরি দক্ষতা এবং মানবসৃষ্টির সীমাহীন কল্পনার প্রতীক।

ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহাসিক দিক (Vishwakarma Puja)
যদিও ঘুড়ি ওড়ানো পুরাণে উল্লেখ থাকলেও, বাংলার মাটিতে এর জনপ্রিয়তা আসে পরবর্তী সময়ে।
১৮৫০-এর দশক
এই সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ঘুড়ি ওড়াতেন না। কেবল ধনী এবং জমিদার পরিবারগুলির মধ্যেই এটি প্রচলিত ছিল।
বর্ধমান রাজবাড়ি
শোনা যায়, রাজা মহতাবচাঁদ নিজেই ঘুড়ি ওড়াতেন। বর্ধমান রাজাদের আদি নিবাস ছিল পাঞ্জাবে, যেখানে ঘুড়ি উৎসব অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁদের হাত ধরেই বাংলায় ঘুড়ি উৎসবের সূচনা ঘটে।
লখনৌয়ের নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ
১৮৫৬ সালে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে সিংহাসনচ্যুত হয়ে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। মেটিয়াব্রুজে তাঁর আবাস গড়ে ওঠার পর ঘুড়ির লড়াই কলকাতার আকাশেও ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াজেদ আলি শাহ ছিলেন ঘুড়ির বড় অনুরাগী, তাঁর প্রভাবেই কলকাতার মানুষ এই খেলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।

ভো-কাট্টা! (Vishwakarma Puja)
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানো শুধুমাত্র ধনীদের বিনোদন না থেকে সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকর্মা পূজোর দিনে ছোট থেকে বড় সবাই ছাদে উঠে “ভো-কাট্টা” প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। এটি শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক মিলনমেলারও এক বিশেষ উপলক্ষ।

ঘুড়ি উৎসব! (Vishwakarma Puja)
ঘুড়ি ওড়ানোর সংখ্যা কমে গেলেও আজ বিশ্বকর্মা পূজোর দিনই আকাশ আবার রঙিন হয়ে ওঠবে। নানা রঙ, আকার আর মাপের ঘুড়ি ভেসে বেড়াবে, আর ছাদের পর ছাদ ভরে ওঠবে মানুষের কোলাহলে।
আরও পড়ুন: Beginning of Durga Puja: ইংরেজদের খুশি করতেই কি দুর্গাপুজোর সূচনা?
আনন্দোৎসব! (Vishwakarma Puja)
বিশ্বকর্মা পূজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর সম্পর্ক একদিকে পৌরাণিক স্মৃতিচিহ্ন, অন্যদিকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দেবশিল্পীর কীর্তি স্মরণ, আকাশপানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর আনন্দোৎসব… সব মিলিয়ে এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানো আজও বাংলার সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অঙ্গ।



