Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : কেরলে মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে (Brain Eating Amoeba)। সরকারি ও চিকিৎসা সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত মোট ৬৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসেবে কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরমের নাম উঠেছে। গত বছর ও চলতি বছরেও রাজ্যে এ ধরনের আক্রান্তের কিছু ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।
পরিষ্কার জলেই এই অ্যামিবা থাকে (Brain Eating Amoeba)
আক্রান্তদের মধ্যে প্রাচীন রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ২০ জনের কথা সামনে এসেছে, যাদের মধ্যে মল্লিকবাজারস্থ INK হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি ছিলেন এবং সেই ১৪ জনের মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন (Brain Eating Amoeba)। অতীতেও কলকাতার SSKM (SSKM)হাসপাতালে এমন এক রোগী ভর্তি ছিল বলে তথ্য মেলেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইসিইউ ব্যবস্থার পরও রোগীদের মৃত্যু নজিরিত হচ্ছে।
মস্তিষ্ক খেকো এই সংক্রমণ সাধারণত নাকের মাধ্যমে ঘটে। পরিষ্কার জলেই এই অ্যামিবা থাকে এবং নাক দিয়ে জল ঢুকলে সে সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। সংক্রমিত হলে রোগী ব্রেইন ফিভার, মাথা ব্যথা, জ¦র, মানসিক বিভ্রান্তি ও দ্রুত প্রগ্রেসিভ স্নায়ুবিক লক্ষণে ভুগেন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ব্রেইন কার্যকারিতা নষ্ট করে ফেলে এই রোগজীবাণু।
অ্যান্টিবায়োটিক আমদানি(Brain Eating Amoeba)
কেরল সরকার মৃত্যুহার ৯৫ শতাংশের দাবিকৃত উপাত্তকে কমিয়ে আনতে বিদেশ থেকে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আমদানি করেছে বলে জানা গেছে (Brain Eating Amoeba)। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ওই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে তারা মৃত্যুহার হার প্রায় ২৫ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে জমা জল ও পরিষ্কার জলের ক্লোরিনেশন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সকল পাবলিক বা প্রাইভেট সোর্সের জল পরীক্ষা করা ও প্রয়োজনীয় ক্লোরিনেশন করা হোক।

আরও পড়ুন : Israel Attack On Gaza : গাজা শহর দখলের লক্ষ্যে স্থলপথে আক্রমণ বাড়লো ইজরায়েল
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ(Brain Eating Amoeba)
তবে কেন কেরলেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আছে (Brain Eating Amoeba)। চিকিৎসক শোভানা বলেন, মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা বলতে একধরনের ফ্রি-লিভিং প্রোটোজোয়া বোঝায় যা পরিষ্কার জলে প্রচলিত। এগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নাক দিয়ে সারাসরি ব্রেইন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশ্বব্যাপী এই সংক্রমণের কোনও পুঙ্খানুপুঙ্খ গাইডলাইন নেই, তাই চিকিৎসা দিয়েই দেখতে হয় এবং অনেক সময় একাধিক ওষুধের কম্বিনেশন ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধগুলি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
জলশোধন ও ক্লোরিনেশন শুরু(Brain Eating Amoeba)
সরকারি সূত্র বলছে, যদিও অনেক জায়গা থেকে জলশোধন ও ক্লোরিনেশন শুরু হয়েছে, তবুও এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে সংক্রমণের উৎস কোথা থেকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ তদন্ত চলছে(Brain Eating Amoeba)। সরকার তৎপরতায় বলছে যে সাঁতারকেন্দ্র, সুইমিং পুল বা অন্য কোনও স্থানের কারণে ছড়িয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকার সুইমিং পুল থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর নিশ্চয়তা স্বীকার করেনি।
মানুষের জন্য কিছু সতর্কতা (Brain Eating Amoeba)
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সতর্কতা বলছেন (Brain Eating Amoeba)। জলে সাঁতার কাটার সময় নাক ঢুকতে না দেওয়া, কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নিয়মিত ক্লোরিনেশনের পুল ব্যবহার করা, পানির উৎস পরীক্ষা করা এবং জ্বর বা মাথাব্যথা দেখা দিলে তৎক্ষণাত কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবেন। পাশাপাশি রাজ্যের কাছে দাবি করা হচ্ছে দ্রুত বেশি সংখ্যক ডায়াগনস্টিক কিট ও সস্তা চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা হোক।
অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে এবং সরকারীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা অনুরোধ করছেন, জনগণ সচেতন হোক এবং সুস্থতা রক্ষায় স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুক।


