Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আলাস্কার হিমায়িত মাটির গভীরে, প্রায় ৪০,০০০ বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা সংক্রামক জীবাণু আবারও জেগে উঠেছে যেন কোনো সায়েন্স-ফিকশন ছবির দৃশ্য (Pandemic Potential From Arctic Ice)। সম্প্রতি কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় জানিয়েছেন, পারমাফ্রস্ট গলানোর পর সেখানকার অণুজীবগুলো ধীরে ধীরে জীবনের চিহ্ন দেখাতে শুরু করেছে। প্রথমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও, কয়েক মাস পর সেই প্রাচীন জীবাণুগুলি উপনিবেশ তৈরি করতে শুরু করে। পরীক্ষাগারে তাদের আচরণ দেখে গবেষকরা অবাক মৃত ভেবে ফেলা অণুজীবগুলি যেন আবার শ্বাস নিচ্ছে, চলছে, বংশবৃদ্ধি করছে।

কোথা থেকে জেগে উঠছে? (Pandemic Potential From Arctic Ice)
এই রহস্যময় জীবাণুগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কসের কাছে অবস্থিত পারমাফ্রস্ট রিসার্চ টানেল থেকে, যা বিজ্ঞানমহলে ‘বরফের কবরস্থান’ নামে পরিচিত। গবেষকরা আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণতার পরিবর্তন অনুকরণ করতে নমুনাগুলিকে ৩°C থেকে ১২°C তাপমাত্রায় উষ্ণ করেন। ছয় মাস পর দেখা যায়, মাইক্রোবায়াল সম্প্রদায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তারা তৈরি করছে জৈবফিল্ম ব্যাকটেরিয়ার একটি সুরক্ষিত স্তর, যা সহজে ধ্বংস করা যায় না।
অদৃশ্য বিপদ কি বাড়ছে? (Pandemic Potential From Arctic Ice)
গবেষকদের মতে, এই জীবাণুগুলি মানুষকে সরাসরি সংক্রমিত করার সম্ভাবনা কম, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসৃত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের গতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে এখন দীর্ঘ, উষ্ণ গ্রীষ্মকাল দেখা যাচ্ছে যেখানে একটিমাত্র গরম দিনের পরিবর্তে পুরো ঋতুই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই বাড়তি উষ্ণতার ফলে জমাট বরফ দ্রুত গলছে, আর তাতেই প্রাচীন অণুজীবগুলির জেগে ওঠার সম্ভাবনা আরও বাড়ছে।
প্রতিরোধেই কি মুক্তি পেতে পারে? (Pandemic Potential From Arctic Ice)
একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের ভাষায়, “পারমাফ্রস্ট অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া নিঃসরণ করতে পারে। আমরা জানি, এদের মধ্যে কিছু জীবাণু অ্যানথ্রাক্স বা পক্স ভাইরাসের মতো মারাত্মক রোগের উৎস হতে পারে। পারমাফ্রস্ট যেন এক ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ একবার খুলে গেলে এর ভেতর থেকে কী বেরোবে, কেউ জানে না।”
হিমবাহ থেকে ভাইরাল বিপর্যয়? (Pandemic Potential From Arctic Ice)
সম্প্রতি প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, হিমবাহ গলার ফলে ভাইরাল স্পিলওভার বা ভাইরাসের নতুন প্রজাতিতে স্থানান্তরের ঝুঁকি বাড়ছে। যখন বরফ গলে গলিত জল নদী বা হ্রদে মিশে যায়, তখন তার সঙ্গে প্রাচীন ভাইরাসও মুক্তি পায়। এই ভাইরাসগুলো প্রাণী, পাখি কিংবা মানুষের শরীরে প্রবেশের নতুন পথ খুঁজে নিতে পারে। এমনকি অজানা কোনো জীবাণু একদিন নতুন অতিমারির জন্ম দিতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: হাসপাতালে আহত বিজেপি সাংসদের সঙ্গে দেখা মুখ্য়মন্ত্রীর…
প্রাচীন ভাইরাসের কার হাতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং মানবজাতির জন্য ভবিষ্যতের এক সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর উত্তর মেরু অঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, ফলে হিমায়িত পৃথিবীর নিচে চাপা পড়ে থাকা অজানা জীবাণুগুলি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃতি তার অতীতের রহস্য ফিরিয়ে আনছে। আমরা যদি সতর্ক না হই, সেই অতীত আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে সংক্রমিত করতে পারে।



