Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালের হিমবাহের জল থেকে তৈরি কমলা নদীর তীরে অবস্থিত একটি ছোট শহর জয়নগর (Mount Everest)। এই শহরটি ভারত ও নেপালের সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিনই সীমান্ত পারাপার হয় মানুষ ও পণ্যের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা এমন এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন যা তাঁদের অবাক ও গর্বিত করেছে বিহারের জয়নগর থেকে খালি চোখে দেখা যাচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট!
অবিশ্বাস্য দূরত্বেও স্পষ্ট দৃশ্য (Mount Everest)
মানচিত্র অনুযায়ী, জয়নগর থেকে মাউন্ট এভারেস্টের দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। সাধারণ অবস্থায় এত দূরের পর্বতশৃঙ্গ চোখে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু একদম পরিষ্কার, কুয়াশাহীন ও দূষণমুক্ত আবহাওয়ার কারণে এই বিরল দৃশ্য সম্ভব হয়েছে। যখন আকাশে কোনও ধোঁয়াশা বা মেঘ থাকে না, বাতাসে থাকে না দূষণ তখন মাউন্ট এভারেস্টের রুপোলি-সোনালি চূড়া দৃশ্যমান হয় জয়নগর থেকেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা কখনও কল্পনাও করেননি যে বাড়ির ছাদে উঠে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের দেখা মিলবে। অনেকেই সেই মুহূর্তে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলে রেখেছেন, যেন প্রকৃতির এই উপহারকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন।
কোন সময়ে দেখা যায়! (Mount Everest)
জয়নগরের বাসিন্দাদের মতে, বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়েই এই দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষত,
- চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে, বসন্তকালের শেষে
- আশ্বিন থেকে কার্তিক মাসে, শরৎ ও হেমন্তকালের মাঝামাঝি সময়ে
এই সময়গুলোতে আকাশ সাধারণত সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার থাকে। বসন্ত পঞ্চমী থেকে হোলি কিংবা রাম নবমী পর্যন্ত, আবার দুর্গা পুজো থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়ে, সূর্যের আলোয় এভারেস্ট কখনও সোনালি, কখনও রুপোলি, আবার কখনও শ্বেতশুভ্র রূপে ঝলমল করে ওঠে। দিনের বিভিন্ন সময় সূর্যালোকের কোণের পরিবর্তনের কারণে রঙের এই রূপান্তর দেখা যায়।
সীমান্তের ব্যস্ত শহর (Mount Everest)
জয়নগর শুধুমাত্র একটি সীমান্ত শহর নয়; এটি ভারতের ও নেপালের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ কেন্দ্র। এখানেই শেষ হয় ভারতের রেলপথ, আর এখান থেকেই শুরু হয় নেপালের রেললাইন। জয়নগর স্টেশনে নেমে ওভারব্রিজ পার হলেই শুরু নেপাল। ফলে এই ছোট শহরটি দুই দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও বাণিজ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।
দূষণমুক্ত আকাশে প্রকৃতির উপহার! (Mount Everest)
পরিবেশবিদদের মতে, এই দৃশ্যের পিছনে মূল কারণ পরিষ্কার বায়ুমণ্ডল ও নিম্ন দূষণমাত্রা। গত কয়েক বছরে দূষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন দৃশ্য একসময় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের পরিষ্কার ও স্বচ্ছ আবহাওয়া, এবং হিমালয়ের দিকে অনুকূল বাতাসের কারণে এভারেস্টের চূড়া আবার দৃশ্যমান হয়েছে। এই ঘটনা শুধু স্থানীয়দেরই নয়, প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের কাছেও এক বিরল সৌন্দর্য ও আনন্দের বিষয়।
আরও পড়ুন: Pandemic Potential From Arctic Ice: জেগেছে নতুন ভাইরাস? প্রাচীন জীবাণু কি আনবে নতুন অতিমারি?
প্রকৃতি ও মানুষ সম্পর্ক (Mount Everest)
জয়নগর থেকে মাউন্ট এভারেস্টের দেখা পাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্য কখনও হারায় না, কেবল আমাদের চোখই তাকে ঢেকে রাখে ধোঁয়াশা ও দূষণে।



