Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : গাজায় দীর্ঘ চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই প্রথমবারের মতো শান্তির দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে(Israel Hamas Conflict)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তিপ্রস্তাবের প্রথম দফায় সম্মতি জানিয়েছে ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। বৃহস্পতিবার সকালেই ট্রাম্প নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা দেন।
শান্তি প্রস্তাবে মোদির প্রতিক্রিয়া (Israel Hamas Conflict)
ঘটনার পরপরই প্রতিক্রিয়া দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন,
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তিপ্রস্তাবের প্রথম দফায় সম্মতি জানানোর বিষয়টি আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এটি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর শক্তিশালী নেতৃত্বেরও প্রতিফলন(Israel Hamas Conflict)।”
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন,
“আমরা আশা করি সব বন্দি মুক্তি পাবেন এবং গাজার মানুষ মানবিক সাহায্যের সুযোগ পাবেন। এতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হবে।”
বন্দি বিনিময় ও সেনা প্রত্যাহার(Israel Hamas Conflict)
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির প্রথম ধাপে দুই পক্ষ বন্দি বিনিময় এবং আংশিক সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে(Israel Hamas Conflict)। তিনি লিখেছেন,
“খুব তাড়াতাড়ি সব বন্দি মুক্তি পাবেন। ইজরায়েল গাজা থেকে পূর্বনির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বাহিনী সরিয়ে নেবে।”
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হবে। হামাসের হেফাজতে থাকা সকল জীবিত ইজরায়েলি বন্দির বিনিময়ে নেতানিয়াহুর সরকার ২০০০ প্যালেস্টাইনিকে মুক্তি দেবে।

আরও পড়ুন : Ind Aus Defence Agreement : চিনকে রুখতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নয়া কৌশল ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার
মধ্যস্থতায় কাতার, মিশর ও তুরস্ক
এই শান্তিপ্রচেষ্টা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি দেশ—কাতার, মিশর এবং তুরস্ক—মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে(Israel Hamas Conflict)। ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন,
দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চুক্তিতে রাজি করাতে এই দেশগুলির ভূমিকা অপরিসীম।”
দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্য
গাজায় চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই শান্তিপ্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরানো পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি কার্যকর হলে গাজার সাধারণ মানুষের জন্য মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলে কূটনৈতিক মহলের আশা।

আরও পড়ুন : CBI Raids Cyber Fraud : “ডিজিটাল অ্যারেস্ট”-এর পর্দা ফাঁস! ৬ রাজ্যের ৪০ জায়গায় সিবিআই তল্লাশি
নতুন আশা, স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ গাজায় দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সহাবস্থানের পথ খুলে দিতে পারে(Israel Hamas Conflict)। যদিও অতীতে বহুবার যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, তবু দুই পক্ষের একযোগে সম্মতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি আশাব্যঞ্জক মোড় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময় ও আংশিক সেনা প্রত্যাহার কার্যকর হলে গাজায় শান্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, এটি ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।


