Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিওয়ালির পর পেরিয়ে গিয়েছে এক সপ্তাহ। তবুও দিল্লির আকাশ এখনও ঘন বাদামি পর্দায় ঢাকা (Artificial Rain)। বাতাসে ভাসছে ক্ষুদ্র দূষিত কণা যা প্রতিদিন আরও মারাত্মক হয়ে উঠছে। আতশবাজির ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলো সব মিলিয়ে রাজধানীর বাতাস এখন কার্যত বিষাক্ত।

দিল্লিতে ‘শ্বাস নেওয়া’ই কঠিন (Artificial Rain)
প্রতিদিনের জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে দুর্বিষহ। স্কুলে ছুটি, হাসপাতালে ভিড়, মাস্ক পরে অফিসে যাচ্ছেন মানুষ। বাতাসের মান (AQI) ছুঁয়েছে ‘গুরুতর’ বা Severe স্তর। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা মানে ফুসফুসে বিষ ঢোকানো। এই অবস্থায় দিল্লি প্রশাসন হাতে নিয়েছে এক অভিনব পদক্ষেপ ‘ক্লাউড সিডিং’ বা কৃত্রিম বৃষ্টি।
কী এই ‘ক্লাউড সিডিং’? (Artificial Rain)
আবহবিদদের মতে, কৃত্রিম বৃষ্টি হল এমন এক প্রযুক্তি, যার সাহায্যে মেঘ থেকে জোরপূর্বক বৃষ্টি নামানো যায়।
এই প্রক্রিয়ায় ,
- বিশেষ বিমানে বা ড্রোনে করে সিলভার আয়োডাইড (Silver Iodide)-এর সূক্ষ্ম গুঁড়ো মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- এই কণার গঠন বরফের অণুর মতো হওয়ায়, তারা মেঘে থাকা জলীয় বাষ্পকে আকর্ষণ করে।
- ফলে ছোট ছোট বরফকণা তৈরি হয়, যা পরে ভারী হয়ে মাটিতে নেমে আসে।
- নীচে নেমে আসার সময় বরফ গলে গিয়ে জল হয়ে পড়ে অর্থাৎ, কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি হয় বৃষ্টি।
দূষণ রোধে এই প্রযুক্তি কীভাবে সাহায্য করবে? (Artificial Rain)
বৃষ্টির ফোঁটা যখন নেমে আসে, তখন তা বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা, ধোঁয়া, কার্বন এবং অন্যান্য দূষক কণাকে সঙ্গে নিয়ে নীচে নামিয়ে আনে। এই কারণে দিল্লির প্রশাসন আশা করছে, একবার ভারী বৃষ্টি নামলে বাতাস অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে, মানুষ অন্তত কিছুদিনের জন্য “স্বস্তির নিশ্বাস” নিতে পারবে।
আগে কোথায় ব্যবহার হয়েছে এই প্রযুক্তি (Artificial Rain)
ভারতে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ একেবারে নতুন নয়। মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে কয়েক বছর আগে খরা মোকাবিলায় সফলভাবে ব্যবহার হয়েছিল ক্লাউড সিডিং। বিদেশে চিন, ইজরায়েল, এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-তেও কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে অনাবৃষ্টি ও খরা কমানোর নজির রয়েছে। তবে দূষণ কমানোর উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের নজির বিরল। দিল্লি হতে চলেছে সেই বিরল উদাহরণগুলির একটি।
বিজ্ঞানীদের মতভেদ (Artificial Rain)
তবে সব বিজ্ঞানীই এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন না। দিল্লির Center for Atmospheric Sciences-এর দুই বিজ্ঞানী শাহজাদ গনি ও কৃষ্ণ অচ্যুত রাও স্পষ্ট মত দিয়েছেন “এটা মূল সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাময়িক আরাম।” তাঁদের মতে কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে কিছুদিনের জন্য দূষণ কমানো গেলেও কয়েক সপ্তাহ পর, বিশেষত শীত নেমে এলে, বাতাস আবার ভারী হয়ে উঠবে, মূল সমস্যাগুলি যেমন: নির্মাণকাজের ধুলো, গাড়ির নির্গমন, শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কোনও প্রযুক্তিই স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না।
আরও পড়ুন:TMC Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের রণক্ষেত্র মালদহ, হরিশ্চন্দ্রপুরে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ!
কোটি টাকার উদ্যোগ, সাময়িক স্বস্তি?
ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একবার বৃষ্টি ঘটাতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, ২৯ অক্টোবর যদি সব শর্ত অনুকূলে থাকে অর্থাৎ, আকাশে পর্যাপ্ত মেঘ জমে তাহলেই প্রয়োগ করা হবে এই প্রযুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়,
এই কৃত্রিম বৃষ্টি কি সত্যিই দিল্লির আকাশকে নির্মল করতে পারবে?
নাকি এটি শুধু ‘প্রযুক্তিগত প্রদর্শন’, যার ফল দীর্ঘস্থায়ী নয়?



