Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী (TMC Clash) সংঘর্ষে ছড়াল চরম উত্তেজনা। জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের অনুগামীদের ওপর গভীর রাতে হামলার অভিযোগ উঠেছে মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় গোটা এলাকা কার্যত থমথমে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর ক্ষুব্ধ কর্মীদের থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভে তপ্ত হয়ে উঠেছে অঞ্চলটি।
ঘটনাটি ঘটে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার রাতে (TMC Clash)
ঘটনাটি ঘটে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার রাতে (TMC Clash)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুলবুল খানের তিন অনুগামী রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় চা-পান করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ যুব নেতা বিজয় দাসের ভাই দুর্জয় দাস ও আরও কয়েকজন তাদের লক্ষ্য করে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। অল্প সময়েই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ব্যাপক মারধরে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনজনই। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে (TMC Clash)
ঘটনার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা (TMC Clash) তুঙ্গে ওঠে। রাতেই শতাধিক বুলবুল অনুগামী থানার সামনে জড়ো হয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। থানা ঘেরাও করে কর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্লোগান তোলেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে ও আশ্বাস দিলে শেষ পর্যন্ত ঘেরাও প্রত্যাহার হয়। তবে এই ঘটনায় দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
সরাসরি অভিযোগ
বুলবুল খান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, “এলাকায় তৃণমূলের কর্মীরাই এখন নিজেদের হাতে নিরাপদ নন। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা দলীয় মানুষদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।” তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভের সুর স্পষ্ট। অন্যদিকে, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সদর এলাকা থেকে আমার বাড়ি অনেক দূরে। রাত দশটার মধ্যেই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলাম।”
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব!
এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলিও মুখ খুলেছে। বিজেপির জেলা সম্পাদক রূপেশ আগরওয়ালের মন্তব্য, “তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।”
আরও পড়ুন: Explosion on the Railway Line: রেললাইনে বিস্ফোরণ! ফের কি জেগে উঠছে পুরনো আতঙ্ক?
স্থানীয়দের মতে, এটাই প্রথম ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ লেগেই রয়েছে। দুর্গাপুজোর সময়ও বুলবুল খানের ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল তাজমুল শিবিরের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর হয়েছিল গাড়িও। সেই ঘটনার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই ফের আঙুল উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই মালদহে তৃণমূলের অন্দরে অশান্তি বেড়েছে। মন্ত্রীর প্রভাববলয় ও তাঁর ভাই জম্মু রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ জমেছে অনেকের মধ্যে।


