Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবও (Chandannagar Lighting)। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হল আলোকসজ্জা। ইতিহাস বলছে, ফরাসি শাসনামলেই শুরু হয়েছিল এই আলোর ঐতিহ্য। তখন জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রার সময় ব্যবহৃত হত গ্যাস লাইট, হ্যাজাক ও ডে লাইট। সেই সময় এই আলোর ব্যবস্থাই ছিল জনমানসে এক আশ্চর্য দৃশ্য, কারণ তখনও কলকাতাসহ বাংলার অন্যান্য অংশে এমন উজ্জ্বল আলো দেখা যেত না।

আধুনিকতার পথে (Chandannagar Lighting)
সময়ের সঙ্গে বদল আসে আলোকসজ্জার ধরনে। গ্যাসলাইট ও হ্যাজাকের জায়গা নেয় টিউবলাইট। ২০শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে টিউবলাইটের ব্যবহারে নতুন যুগের সূচনা হয়। প্যান্ডেল ও মণ্ডপের সাজে টিউবলাইট ব্যবহারে উজ্জ্বলতা যেমন বেড়েছিল, তেমনই কারিগরির ক্ষেত্রেও শুরু হয় নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
প্রযুক্তির ঝলক (Chandannagar Lighting)
বর্তমান যুগে চন্দননগরের আলো মানেই টুনি বাল্ব বা এলইডি লাইটের কারুকাজ। আজকাল এই আলোকসজ্জা শুধুমাত্র আলো জ্বালানো নয়, এটি এক ভিজ্যুয়াল আর্ট বা দৃশ্যশিল্প। টুনি বাল্বের সূক্ষ্ম আলো দিয়ে তৈরি হয় দেবদেবীর প্রতিমা, ঐতিহাসিক দৃশ্য, সমাজবিষয়ক বার্তা, এমনকি আন্তর্জাতিক বিষয়বস্তুও। চন্দননগরের শিল্পীরা এখন থ্রি-ডি অ্যানিমেশন ও ফাইবার স্ট্রাকচার ব্যবহার করে আলোর মধ্যে গতিশীলতা ও প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে আলো কেবল স্থির নয়, নড়ে, চলে, গল্প বলে।

এক পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রি (Chandannagar Lighting)
বর্তমান সময়ে চন্দননগরের এই আলোকশিল্প এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। প্রথমে শিল্পীরা কাগজে এঁকে নেন ডিজাইন বা বিষয়বস্তু, তারপর সেটিকে লোহার কাঠামো বা ফাইবার ফ্রেমে ফুটিয়ে তোলেন। ব্যবহৃত হয় হাজার হাজার টুনি বা এলইডি বাল্ব। এই কাজ শুধুমাত্র জগদ্ধাত্রী পুজোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় চন্দননগরের আলো আজ কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, এমনকি বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইউরোপ ও আমেরিকার মেলাতেও সমাদৃত।
বাগবাজার ও ফরাসডাঙা (Chandannagar Lighting)
চন্দননগরের আলোক ঐতিহ্যের পিছনে আছেন কয়েকজন পথিকৃৎ শিল্পী। জানা যায়, বাগবাজারই প্রথম তাদের শোভাযাত্রায় টুনি বাল্বের আলো ব্যবহার করে। সে সময় হাওড়ার মহাকালী ইলেকট্রিক থেকে টুনি বাল্ব আনা হয়েছিল ফরাসডাঙায়। এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন শিল্পী শ্রীধর দাস, যিনি আধুনিক আলোকসজ্জার অন্যতম পথিকৃৎ বলে পরিচিত। পরে চুঁচুড়ার তারক পাল বাগবাজারে টুনি আলোর কারুকাজ করে এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: Weather Update: জগদ্ধাত্রী পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া? জেনে নিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস
চন্দননগরের আলোর সম্রাজ্য
আজ চন্দননগরের আলো মানেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন শুধুমাত্র এই আলোকসজ্জা দেখতে। কলকাতার দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে, “Chandannagar Lighting” এখন এক ব্র্যান্ড। একসময় ফরাসি শাসনের প্রভাবে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলেমিশে এক বৈশ্বিক শিল্পধারায় পরিণত হয়েছে।



