Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেয়েদের বিশ্বকাপের ট্রফি থেকে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে (India vs South Africa)। তার আগে দুই দলের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন না থাকলে পড়তে হতে পারে সমস্যায়।
দুই দলের খুঁটিনাটি (India vs South Africa)
আর মাত্র একটা রাতের অপেক্ষা। তারপরেই রণাঙ্গণে ভারতের মেয়েরা। রবিবাসরীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য মুখিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। আগ্রাসী অস্ট্রেলিয়ার দর্প চূর্ণ হয়েছে ভারতীয় মেয়েদের দাপটে। এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি তাদের সামনে। তবে দুই দলের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত না থাকলে পড়তে হতে পারে সমস্যায়। জেনে নেওয়া যাক দুই দলের শক্তি সম্পর্কে (India vs South Africa)।
ভারতীয় দলের শক্তি (India vs South Africa)
ভারতীয় দলের প্রধান শক্তি হলো তাদের ব্যাটিং লাইন আপ। ওপেনার স্মৃতি আগের ম্যাচে তেমন রান না পেলেও পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে রয়েছেন স্বপ্নের ছন্দে। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তাকে দেখা গিয়েছিল দুর্দান্ত ছন্দে থাকতে। তাছাড়াও আগের ম্যাচে রানে ফিরতে দেখা গিয়েছে দলের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌরকে। তিনি অজি বধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাছাড়াও অজি বধের মূল কান্ডারি জেমিমা রয়েছেন অনবদ্য ছন্দে। তার ১২৭ রানে ইনিংস জয় ছিনিয়ে আনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

অজিদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এই ম্যাচে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তি নজর থাকছে শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষের দিকে। শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে গোটা দেশের নজর কেড়েছে বছর বাইশের রিচা। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরেছিল ভারত। তবে সেখানেও উজ্জ্বল নক্ষত্রের জ্বলে উঠেছিল রিচা। ব্যাটে এসেছিল ৯৪ রানের বিরাট ইনিংস। রিচাকে নিয়েই এখন আশায় বুক বাঁধছে বাংলা (India vs South Africa)।
দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি
প্রোটিয়াদের বড় ভরসা তাদের দুই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটস। এই দু’জনই ভাল পারফর্ম করছেন। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন ও ওপেনার লরা সেমিফাইনালে ১৬৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন। যা তাদের জয়ের পথ তৈরি করেছে প্রোটিয়া টিমের অন্যতম অলরাউন্ডার মারিজানে ক্যাপ, সুনে লুস ও নাডিন ডি ক্লার্ক। তারা ব্যাটে ও বলে দুই বিভাগেই অবদান রাখছেন। তাদের জন্যই দলটিতে যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে। প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় শক্তি হল দলের আত্মবিশ্বাস। আগের টুর্নামেন্টগুলোয় ব্যর্থ হলেও এ বার তারা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরে ফাইনালে এসেছে।
তবে দুই দলের শক্তির পাশাপাশি রয়েছে কিছু দুর্বলতা। সেই দুর্বলতার কথাও মাথায় রেখে নামতে হবে দুই দলকে। নিজেদের দলকে এই মেগা ফাইনালের আগে নিজেদের দুর্বলতা শুধরে নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
ভারতীয় দলের দুর্বলতা (India vs South Africa)
ভারতীয় দলের প্রধান দুর্বলতা ফিল্ডিং। যা প্রথম ম্যাচ থেকেই চোখে পড়ছে। যার ফলে বিপক্ষকে কমপক্ষে ২০-২৫ রান বেশি উপহার দিয়ে আসছে ভারতীয় দল। যার ফলে হয় নিজেদের জয়ের লক্ষ্য বাড়ছে আর নয়তো প্রতিপক্ষের লক্ষ্য কমছে। ম্যাচে একাধিক ক্যাচ মিস চিন্তায় রাখবে ভারতীয় দলকে। সেমিফাইনালেও একাধিক ক্যাচ ফেলেছে ভারত। প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৮টি ক্যাচ ফেলেছেন হরমনপ্রীতেরা। ভারতীয় দলের দুর্বল বোলিং আক্রমণও উদ্বেগে রাখবে কোচ অমল মুজুমদারকে।

আরও পড়ুন: Asia Cup Trophy: মহসিন নকভিকে দ্রুত ট্রফি ফেরত দেওয়ার হুঁশিয়ারি BCCI-এর
দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বলতা (India vs South Africa)
প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা হলো ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব। অধিনায়ক উলভার্ট ছাড়া প্রথম সারির আর কোনও ব্যাটার ভাল ফর্মে নেই। তাছাড়াও স্পিনের বিরুদ্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের বেগ পেতে দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড ভাবে। ভারতের হাতে দীপ্তি শর্মা, স্নেহ রানা, শ্রী চরণি, রাধা যাদবের মতো স্পিনার রয়েছেন। মুম্বই পিচে তাঁদের সামলাতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। বিশাখাপত্তনমে লিগের ম্যাচে চরণির বল খেলতে পারেননি তাঁরা। প্রথমবার ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে স্পিন বল খেলার দুর্বলতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে (India vs South Africa)।


