Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কক্কর ইব্রাহিম (Dipika Kakar), যাকে দর্শকরা সসুরাল সিমার কা-র “সিমার” নামে চেনেন, সম্প্রতি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। দীর্ঘ নীরবতার পর তিনি জানান, কীভাবে ক্যানসারের মতো এক মারণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে তিনি আজ আবার জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখেছেন।

প্রাথমিক উপসর্গ ও রোগ নির্ণয় (Dipika Kakar)
দীপিকা জানান, প্রথমে তিনি কেবলমাত্র হালকা পেটব্যথা অনুভব করছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এটি গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সাধারণ সমস্যা। কিন্তু দিন যত এগোতে থাকে, ব্যথা ততই বাড়তে থাকে। তখনই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর পিত্তথলিতে একটি টিউমার রয়েছে। এই টিউমারের মধ্যেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত হয়।
জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা (Dipika Kakar)
ডাক্তাররা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন যে, ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে হলে তাঁর লিভারের একটি বড় অংশ কেটে বাদ দিতে হবে। প্রায় ২২ শতাংশ লিভার (প্রায় ১১ সেন্টিমিটার) এবং পিত্তথলি অপসারণ করা হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। এই সার্জারি ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘস্থায়ী। দীপিকা জানান, তিনি ও তাঁর পরিবার সেই সময় ভীষণভাবে মানসিক চাপে ছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকদের সহযোগিতা ও পরিবারের সাহচর্য তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল।
চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ (Dipika Kakar)
অস্ত্রোপচারের পর দীপিকা বর্তমানে Targeted Therapy বা লক্ষ্যবস্তু থেরাপি নিচ্ছেন। এটি কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি উন্নত এবং নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষগুলিকে আঘাত করে ধ্বংস করে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী দুই বছর তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে, যাতে ক্যানসার পুনরায় ফিরে না আসে এবং শরীরের অন্য কোনও অংশে ছড়িয়ে না পড়ে।
FAPI স্ক্যানের ফলাফল (Dipika Kakar)
দীপিকা জানান, তাঁর পরিবার ও চিকিৎসক দল এখন একটি নতুন FAPI স্ক্যান-এর রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। এই স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে কোনও ক্যানসার কোষ অবশিষ্ট আছে কি না, তা জানা যায়। তিনি বলেন, “শেষ স্ক্যানে শরীরের কোথাও কোনও ক্যানসার কোষ পাওয়া যায়নি। আমার রক্ত পরীক্ষাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এসেছে। এটাই আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।”
অনুপ্রেরণার বার্তা (Dipika Kakar)
নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে দীপিকা সকলকে পরামর্শ দেন, শরীরে ছোটখাটো সমস্যাকেও অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “যদি আমি পেটব্যথাটাকে হালকাভাবে নিতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যেত।” তিনি আরও যোগ করেন, “রোগের মধ্য দিয়ে আমি বুঝেছি, জীবন কতটা মূল্যবান। প্রতিটি দিনই এখন আমার কাছে নতুন এক আশীর্বাদ।”
ভক্তদের ভালোবাসা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
দীপিকার সাহসিকতা এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন তাঁকে। সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। ইউটিউব চ্যানেল ও পডকাস্টে তিনি নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং জীবনের নতুন দৃষ্টিকোণ ভাগ করে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: Shani Margi 2025: শনি দেবের মীন রাশিতে গমন, ২০২৬ পর্যন্ত ভাগ্য উজ্জ্বল হবে এই পাঁচ রাশির!
জীবনের নতুন অধ্যায়
আজ দীপিকা কক্কর শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা। কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করে তিনি প্রমাণ করেছেন মানসিক শক্তি, পরিবার ও বিশ্বাস থাকলে জীবন আবারও নতুন করে শুরু করা যায়।



