Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ ফের জঙ্গি নেটওয়ার্কের ভয়াবহতা ফিরিয়ে এনেছে। তবে এটি ভারতীয় মুজাহিদিনের পুরোনো মডিউলের মতো নয়; বরং আরও জটিল, আধুনিক ও সুসংগঠিত একটি ‘হোয়াইট কলার’ জিহাদি(white collar terror module) চক্রের উত্থান, বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে(Pakistan)।
বিভিন্ন রাজ্যে মডিউলের জাল (Pakistan)
এনআইএ–র দাবি আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন নবি ছিল জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা জুড়ে বিস্তৃত এক ট্রান্স-স্টেট মডিউলের অংশ। ডাক্তার ও ধর্মীয় প্রচারকদের নিয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-এ-মোহাম্মদের নির্দেশে চলছিল বলে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সন্দেহ করছে। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ জানিয়েছিল, এই মডিউলটি এমনভাবে উগ্রপন্থায় টানছিল যা বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড চ্যানেলে যুক্ত। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বলছে, চক্রটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে মতাদর্শ, নির্দেশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থ সংগ্রহ করত। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা তাদের স্থানীয় আধারভিত্তিক নেটওয়ার্কের বদলে একটি ‘অল ইন্ডিয়া’ মডিউলে রূপ দিয়েছে।
পাকিস্তানের নয়া কৌশল (Pakistan)
কৌশল এখন বদলে গেছে—কোনও আরডিএক্স, সীমান্ত পেরোনো প্রশিক্ষণ নয়; বরং হাই-স্পিড ইন্টারনেট, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা জঙ্গিদের তৈরি করছে। বোমা বানানো থেকে শুরু করে পরিকল্পনা—সবই এখন অনলাইনে শেখানো সম্ভব। এতে যেমন বিপথগামী যুবকদের টার্গেট করা সহজ, তেমনই পাকিস্তান নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকারও করতে পারছে। গত কয়েক বছরে লস্কর-ই-তইবা–কে TRF বা PAFF নামে ‘হোমগ্রোন’ সংগঠনের রূপে তুলে ধরার চেষ্টাও এই কৌশলের অংশ।
আরও পড়ুন: Alipurduar : গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে বিলাসিতা:আলিপুরদুয়ার থেকে গ্রেপ্তার ভুয়ো IPS !
শিক্ষিত, প্রযুক্তিতে দক্ষ জঙ্গির উত্থান (Pakistan)
বিশেষজ্ঞ আদিল রশিদের মতে, শিক্ষিত তরুণদের প্রযুক্তি জ্ঞানই এখন জঙ্গিবাদের প্রধান শক্তি। ভারতীয় মুজাহিদিনের ইয়াসিন ভাটকাল বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পীরভয়ের মতো উদাহরণ আবার সামনে আসছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ভাষায়, দিল্লি বিস্ফোরণে অভিযুক্তদের শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতাই ছিল অর্থ জোগাড়, সদস্য সংগ্রহ ও আইইডি তৈরির মূল হাতিয়ার। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই নতুন প্রজন্মের ‘হোয়াইট কলার’ জিহাদই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



