Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Election Commission) শুরু হতেই নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয় সোনাগাছিতে যে এলাকা শুধু কলকাতারই নয়, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ যৌনপল্লি । বহু দশক ধরে সমাজের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া মানুষগুলির বাস এখানে। তাঁদের নাগরিক পরিচয়, সরকারি নথি, বাসস্থান এবং সামাজিক অবস্থান সবই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে। SIR প্রক্রিয়ার শুরুতেই তাই যৌনকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল যদি তাঁদের ভোটার পরিচয়ই বাতিল হয়ে যায়!
কেন আতঙ্কের ঢেউ? (Election Commission)
সোনাগাছির যৌনকর্মীদের বড় অংশেরই জন্মস্থান অন্যত্র কেউ গ্রাম থেকে, কেউ ভিন রাজ্য থেকে এখানে এসে দীর্ঘদিন ধরে পেশায় যুক্ত। ফলে ২০০২ সালের নথি বা পুরনো বাসিন্দা-প্রমাণপত্র তাঁদের কাছে নেই। কিন্তু SIR-এ পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে এই নথিকেই গুরুত্ব দেওয়ায় তৈরি হয় ভয়। আরও একটি কারণ ছিল ২০০৭ সালে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন সোনাগাছিতে বিশেষ উদ্যোগে গিয়ে ‘উষা মাল্টিপার্পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’-র অ্যাকাউন্টকে নথি হিসেবে ধরে বহু যৌনকর্মীর ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন। এবার SIR-এ সেই নথি বাতিল হতে পারে এই আশঙ্কাও তাঁদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে যৌনকর্মীরা নয়, তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংগঠন, সোশাইটি অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন, উষা মাল্টিপার্পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, আমরা পদাতিক এদের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে তিনটি নির্দিষ্ট উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: Stock Market: শেয়ার বাজারে ৩৫ গুণ লাভ, কোন স্টকে কত বিনিয়োগ?
সমস্যার তিনটি মূল দিক (Election Commission)
১. পুরনো নথি নেই তবে কি ভোটাধিকারও থাকবে না?
যৌনকর্মীদের অনেকেরই নিজের নামে স্থায়ী বাড়ি নেই, বহু বছর ধরে ভাড়ার ঘরে বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন। পুরনো নথি তাঁদের হাতে না থাকা খুবই স্বাভাবিক। এই নথির অভাবেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
২. ২০০৭ সালের ভোটার কার্ড কি অবৈধ হবে?
উষা কো-অপারেটিভের অ্যাকাউন্ট তখন বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। এখন সেই কার্ড বাতিল হলে হাজার হাজার মানুষ ভোটাধিকার হারাবেন।
৩. বিশেষ এনিউমারেশন শিবিরের দাবি
নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে যৌনপল্লিতে যান না। তাই সঠিক নথি যাচাই বা ফর্ম পূরণের সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। যৌনকর্মীরা চেয়েছিলেন তাদের জন্য আলাদা করে বিশেষ শিবির করা হোক, যেখানে তাঁদের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প নথি গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: Midnapore News: সপ্তাহের প্রথম দিনেই আগুন! কীভাবে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রোগীরা?
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
সমস্ত অভিযোগ ও উদ্বেগের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান সোনাগাছিতে ‘বিশেষ হিয়ারিং ক্যাম্প’ হবে, এবং তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এই ঘোষণায় সোনাগাছির যৌনকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ তাঁদের নথি যাচাই হবে, আগের নথি ও ভোটার কার্ড খতিয়ে দেখা হবে, নথি না থাকলেও বিকল্প প্রমাণ গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা কমবে, পরিসংখ্যান বলছে, সোনাগাছিতে ১০ হাজার যৌনকর্মীর আনাগোনা, এর মধ্যে ৭ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা। বহু মানুষই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধাভোগী। পরিচয়ের সঙ্কট তাঁদের জীবনে নতুন নয়, আর সেই পরিচয়ই আবার প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।



