Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের সীমান্ত লাগোয়া লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি)-এর ওপারে এখনও সক্রিয় রয়েছে প্রায় ৬৯টি জঙ্গি ঘাঁটি (Terrorists Waiting)। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির অনুমান, এর মধ্য থেকেই ১০০ থেকে ১২০ জন জঙ্গি সুযোগের অপেক্ষায় ওঁত পেতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের জন্য। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিএসএফ গোটা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
রেখায় শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় (Terrorists Waiting)
কঠিন পাহাড়ি ভূখণ্ডের ওপর বিস্তৃত ৩৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা ও বিএসএফ যৌথভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। বিএসএফ-এর কাশ্মীর ফ্রন্টিয়ার ইনস্পেক্টর জেনারেল অশোক যাদব জানিয়েছেন, বহু পর্যবেক্ষণ পোস্ট, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং যৌথ টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। লক্ষ্য অনুপ্রবেশের সমস্ত সম্ভাব্য পথ বন্ধ করা।
কীভাবে সফল হলো ভারতীয় বাহিনী? (Terrorists Waiting)
চলতি বছরেই অন্তত চারটি বড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই জঙ্গিরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ঘাঁটি থেকে সশস্ত্র অবস্থায় ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। এই চারটি অভিযানে মোট আট জন জঙ্গি নিহত হয়। এই অভিযানগুলি ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ, যা এ বছরের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট আঘাত (Terrorists Waiting)
এই বিশেষ অভিযানের সময় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের পোস্ট এবং জঙ্গিদের একাধিক লঞ্চপ্যাডে নিখুঁত ও শক্তিশালী আক্রমণ চালায়। এর ফলে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে গোয়েন্দাদের মতে, এখনও বেশ কয়েকটি ঘাঁটি অত্যন্ত সক্রিয়, যেখান থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
যে নির্দেশ দিল বিএসএফ (Terrorists Waiting)
এক বিএসএফ কর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত সুরক্ষা আরও বাড়ানো হয়েছে। সেনা ও বিএসএফ একত্রে বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা রেখেছে। বিশেষ করে যে সব অঞ্চল দিয়ে পূর্বে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, সেই সব পয়েন্ট এখন দ্বিগুণ নজরদারির আওতায়।
পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি সতর্কতা (Terrorists Waiting)
এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর উপত্যকার সমস্ত পর্যটনকেন্দ্রকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফ-ও এই দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। অশোক যাদব জানান, ‘‘পহেলগাঁওতে পর্যটকদের উপর হামলার পর গুলমার্গ, সোনমার্গসহ সংবেদনশীল পর্যটন এলাকার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত বিএসএফ সন্ত্রাসবিরোধী দল মোতায়েন করা হয়েছে।’’
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনা
কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের পর্যটকরা ভ্রমণ করতে আসেন। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই। তাই পর্যটন এলাকাগুলিতে ক্যামেরা নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (QRT) সক্রিয় রাখা, স্থানীয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সমন্বিত টহল, সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্তকরণে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ, এসবই এখন প্রতিদিনের নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ।



