Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে শপথ (CV Ananda Bose) নেওয়ার পর থেকেই নিজের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহ দেখিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। শপথ গ্রহণের পর তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি গড়গড়িয়ে বাংলা শেখার চেষ্টা করবেন এবং বাংলাকে ভালোবেসে বাংলার মানুষদের সাথে মিলেমিশে চলবেন। এ প্রসঙ্গে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজভবনের ‘ইস্ট লন’-এ সরস্বতীপুজোর দিনে অনুষ্ঠিত ‘হাতেখড়ি’র পাঠশালা। সেখানে এক খুদে তাকে বাংলা বর্ণ লিখতে শিখিয়েছিল। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি বাংলা শিখব। বাংলা সুন্দর ভাষা। আমি বাংলাকে ভালবাসি। আমি বাংলার মানুষকে ভালবাসি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আমার নায়ক। জয় বাংলা, জয় হিন্দ।’’
তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (CV Ananda Bose)
তবে রাজ্যপালের নাগরিকত্ব নিয়ে একটি তথ্য প্রকাশ (CV Ananda Bose) করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হতে চাইছেন না। রাজ্যে চলা বিশেষ নিবিড় ভোটার সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় দেখা গেছে, রাজ্যপালের নামে কোনও এনুমারেশন ফর্ম রাজ্য ভোটার তালিকায় জমা হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি কেরলের কোট্টায়ামের ভোটার হিসেবে এখনও রয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক হতে চাননি।

আরও পড়ুন: Gita Paath: নজিরবিহীন ধর্মীয় আয়োজন কলকাতায়, ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’ ব্রিগেড ময়দানে
একজন রাজ্যপাল সাধারণত রাজ্যের প্রথম নাগরিক (CV Ananda Bose) হিসেবে গণ্য হন এবং রাজ্যের ভোটার হওয়া তাদের জন্য কোনো বাধা নয়। রাজভবন থেকে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলে, কমিশন নাম যাচাই ছাড়াই রাজ্যপালের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করে। পূর্ববর্তী রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এমনভাবে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক হয়ে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু সিভি আনন্দ বোস নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি কেরলেই ভোটার থাকতে চান। সেই কারণে তাঁর নামে পশ্চিমবঙ্গের এনুমারেশন ফর্মও আসেনি।
নামেই বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ছোঁয়া
সিভি আনন্দ বোসের নামেই বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে। কেরল ও তামিলনাড়ুতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের নামে শিশুদের নাম রাখার প্রচলন রয়েছে, যার প্রভাব বোসের নামেও লক্ষ্য করা যায়। তিনি নিজেও নেতাজি বোসকে নিজের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শপথ গ্রহণের পর থেকে বাংলার প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ পায়, বিশেষ করে ভাষা শেখার ক্ষেত্রে।

রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ এবং নাগরিকত্ব বিষয়ক সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার নন, তবুও রাজ্যপালের ভাষা শেখার উদ্যোগ এবং বাংলার প্রতি তার ভালোবাসা একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখাচ্ছে।


