Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে ই-কমার্স ও ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারির যুগে বাজার বদলে গিয়েছে দ্রুতগতিতে (Raghav Chadha)। শহুরে মানুষ এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন ফোনের এক ট্যাপে খাবার, দুধ, ডিম, জামাকাপড় কিংবা ছোটখাটো উপহার মুহূর্তের মধ্যে ঘরে পৌঁছে পাওয়ার সুবিধায়। জ়্যোমাটো, সুইগি, ব্লিঙ্কিট, জ়েপ্টো, ওলা সব সংস্থা প্রতিযোগিতায় নেমে এনেছে ‘১০ মিনিট ডেলিভারি’ পরিষেবা। কিন্তু এই অত্যাধুনিক সুবিধার আড়ালে যে এক বড় মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে, তা সংসদের মঞ্চে তুলে ধরলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা।

সুবিধার আড়ালে অমানবিক চাপ (Raghav Chadha)
মোবাইল অ্যাপ খুললেই পাওয়া যাচ্ছে তাৎক্ষণিক পরিষেবা। একদিকে এটি আধুনিক জীবনের গতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে এই গতি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে ডেলিভারি কর্মীদের উপর চাপ বাড়ছে বহুগুণ। সংসদীয় আলোচনায় রাঘব চাড্ডা বলেন গ্রাহকের সুবিধা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ডেলিভারি এজেন্টের জীবন ও নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘ডেলিভারি কর্মীরা রোবট নন’ (Raghav Chadha)
শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভার জিরো আওয়ারে উঠে আসে এই বিষয়টি। রাঘব চাড্ডা স্পষ্ট বলেন, ডেলিভারি কর্মীরা কোনও যন্ত্র নন।, তাদেরও পরিবার আছে, তাদেরও বিশ্রাম, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রয়োজন।, ১০ মিনিটে ডেলিভারি দেওয়ার অমানবিক চাপ কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এই মানুষেরা রোবট নয়। তারা কোনও মেশিন নয় যাদের ২৪ ঘণ্টা ননস্টপ দৌড়ে চলতে হবে।”

‘অদৃশ্য চালিকাশক্তি’ গিগ ওয়ার্কাররা (Raghav Chadha)
ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরা দেশের গিগ ইকোনমির মেরুদণ্ড। তাদের পরিশ্রমেই আজ অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো দাঁড়িয়ে আছে। অথচ, তাদের কর্মপরিবেশ অস্বস্তিকর, দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ, বৃষ্টি, গরম, ঠান্ডা সব দায় তাঁদের, কর্মস্থানে নিরাপত্তাহীনতা, আয়ের অনিশ্চয়তা, পর্যাপ্ত ইন্সুরেন্সের অভাব, রাঘব চাড্ডা বলেন, “প্রতিটি নোটিফিকেশনের পিছনে আছে এক কর্মীর অদেখা পরিশ্রম।”
এক নজরে (Raghav Chadha)
১. অস্বাভাবিক গতি বজায় রাখার চাপ
১০ মিনিটে ডেলিভারির বাধ্যবাধকতা কর্মীদের মানসিক চাপ ও শারীরিক ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে তাদের জরিমানা হয়।
২. ট্রাফিক আইন ভাঙতে বাধ্য হওয়া
অনেক কর্মী ভয়ের চাপে লালবাতি অমান্য করেন, অতিরিক্ত গতিতে যান। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
৩. যে কোনও আবহাওয়ায় কাজ
প্রবল বর্ষণ, তীব্র গরম বা শৈত্যপ্রবাহ—সব কিছু উপেক্ষা করে তাদের কাজ করতে হয়।
৪. ইন্সুরেন্স বা নিরাপত্তার অভাব
অনেক সংস্থায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিমা বা দুর্ঘটনা বীমা নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণও পান না।
৫. কাস্টমারের হেনস্থা
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাস্টমারের অবজ্ঞা, হুমকি বা অপমানের শিকার হন কর্মীরা।
আরও পড়ুন: Gita Path Programme: গীতাপাঠের মঞ্চে রাজ্যপালের উপস্থিতি
১০ মিনিট পরিষেবা কি তবে বন্ধ হবে?
সাংসদ রাঘব চাড্ডা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, সংসদ যেন এই অমানবিক পরিষেবা বন্ধ করে। গিগ কর্মীদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন, সংসদ বা কেন্দ্রীয় সরকার এই দাবির প্রতিক্রিয়া কীভাবে নেবে? ১০ মিনিট পরিষেবা বন্ধ হলে তা কি গ্রাহকের অসুবিধা বাড়াবে, নাকি কর্মীদের জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হবে এখন দেশের নজর সেই দিকে।



