Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্রিগেডে ‘এক লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর আয়োজন হয়েছিল (Gita Path Programme)। সেই অনুষ্ঠানের প্রতিধ্বনি যেন দুই বছর পর আবার ফিরে এল। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই একই মঞ্চে আরও বড় আয়োজন এবার লক্ষ্য পাঁচ লক্ষ কণ্ঠ। আয়োজনের দায়িত্বে ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির সক্রিয় মদত। এ দিনের ব্রিগেড পরিণত হয়েছিল যেন ধর্মীয় জোটবদ্ধতার এক বিশাল প্রদর্শনীতে সাধুসন্তদের উপস্থিতি, প্রথম সারির বিজেপি নেতাদের অংশগ্রহণ, এবং সবচেয়ে আলোচিত মুখ বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী।

হিন্দু রাষ্ট্রের ডাক (Gita Path Programme)
গীতাপাঠের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী সরাসরি সওয়াল করেন হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাঁর বক্তব্য, “প্রদেশ যখন এক হয়, তখন দেশ তৈরি হয়। বাংলার হিন্দুরা যখন এক হবেন, তখনই ভারত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হবে।” এই বক্তব্য শুধু ধর্ম নয়, রাজনীতিকেও উসকে দিল। বিশেষত নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী মহল।
হুমায়ুন কবীরকে লক্ষ্য (Gita Path Programme)
সম্প্রতি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভরতপুরের নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক ১২-এর পাশের একটি খোলা জমিতে তিনি করেন ‘বাংলার বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর। ঠিক তার পরের দিনই কলকাতায় গীতাপাঠ। ফলে দুই ঘটনার সময়গত নৈকট্য আরও রহস্যময় করে তুলেছে রাজনৈতিক আবহ। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ ইঙ্গিতপূর্ণ আক্রমণ করেন হুমায়ুনের দিকে, “যাঁরা এক সময় ভারতে আক্রমণ চালিয়েছিল, তাঁদের নামাঙ্কিত এই দেশে কি কোনও কিছু তৈরি করা উচিত? ভারত বাবরের দেশ নয়, রঘুবরের দেশ।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এক রাজনৈতিক সুর (Gita Path Programme)
একদিকে বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর, অন্যদিকে ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ দুই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যই ভিন্ন হলেও রাজনৈতিক তাৎপর্য একদমই স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মত, উভয় ঘটনাই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ককে উত্তেজিত করার কৌশল। সমাজে ধর্মীয় বিভাজন তুলে ধরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লাভ তোলা প্রধান লক্ষ্য। ঘটনাগুলি একে অপরকে প্রতিরোধ করলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য জনমত প্রভাবিত করা।
রাজনৈতিক বার্তা (Gita Path Programme)
এদিন ব্রিগেডে শুধু গীতাপাঠ হয়নি ঘটেছে একটি প্রতীকী রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ। বিশাল জনসমাগম, সাধুসন্তদের আগমন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি এক সামাজিক শক্তিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ধর্মীয় সমাবেশে বৃহৎ জনসমাবেশ আসলে নির্বাচনী প্রচারের বিকল্প রূপ।
আরও পড়ুন: Gita Path Programme: গীতাপাঠের মঞ্চে রাজ্যপালের উপস্থিতি
বাংলার রাজনীতিতে ধর্মের ক্রমবর্ধমান
বেলডাঙা থেকে ব্রিগেড গত ২৪ ঘণ্টায় যে দুটি দৃশ্য দেখা গেল, তা বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশের দিক নির্দেশ করছে। ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানো, জনমানসে পরিচয়–রাজনীতিকে চড়িয়ে তোলা, ভোটের আগে হিন্দু–মুসলিম মেরুকরণ তীব্র করা, এই প্রবণতা যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আরও বাড়বে, তা এখনই স্পষ্ট। বাংলার রাজনীতিতে ধর্ম যে আবারও কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে চলেছে, গীতাপাঠের পবিত্র মঞ্চ থেকে সেই ইঙ্গিত আরও প্রখর হয়ে উঠল।



