Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো গত এক সপ্তাহ ধরে মারাত্মক পরিষেবা-সঙ্কটে ভুগছে (Indigo Flights Cancelled)। প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের অভিযোগ, ক্ষোভ, অসন্তোষ বাড়তে বাড়তে ইতিমধ্যেই তা জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থার প্রশাসনিক ব্যর্থতা, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং সামগ্রিক লজিস্টিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে কাটছে হাজার হাজার যাত্রীর প্রতিটি দিন। ছ’দিন অতিক্রান্ত হলেও সপ্তম দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারেনি। বরং নতুন করে বাড়ছে বাতিল উড়ানের সংখ্যা।

গণপরিবহণে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা (Indigo Flights Cancelled)
সোমবারও ইন্ডিগো বাতিল করেছে ৩০০-র বেশি উড়ান। যাত্রীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। দিল্লি বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল। সেখানে, ১৩৪টি উড়ান বাতিল, যার মধ্যে ৫৯টি অবতরণের এবং ৭৫টি রওনা দেওয়ার কথা ছিল।সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৬০টি উড়ান বাতিল হওয়ার খবর মিলেছে। যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন, বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। অন্য বিমানবন্দরগুলির অবস্থাও তেমন আশাব্যঞ্জক নয়, বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর: ১২৭টি উড়ান বাতিল, চেন্নাই বিমানবন্দর: ৭১টি উড়ান বাতিল, অহমদাবাদ বিমানবন্দর: ২০টি উড়ান, এবং বিশাখাপত্তনম, কলকাতা, মুম্বই সব জায়গাতেই উড়ান বাতিলের ভীষণ চাপ।

বাতিলের পরেও স্বাভাবিকতা অধরা (Indigo Flights Cancelled)
রবিবার ইন্ডিগো বাতিল করেছিল ৬৫০টি উড়ান যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, রবিবার ১,৬৫০টি উড়ান ঠিকঠাক চলেছে। যদিও ইন্ডিগো প্রতিদিন গড়ে ২,৩০০টি উড়ান পরিচালনা করে। সেই তুলনায়, শুক্রবার চলেছে মাত্র ৭০৬টি, যা রবিবার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৫০-এ। কিন্তু সোমবারের অবস্থানেই স্পষ্ট সংস্থাটি এখনো তার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরতে দূরবর্তী।
যাত্রীদের ক্ষোভ (Indigo Flights Cancelled)
বিমান বাতিলের চাপে পড়ে বহু যাত্রীর সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিদেশ যাত্রা, চাকরির ইন্টারভিউ সব কিছুতেই ঘটেছে ঘোর বিপত্তি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ইন্ডিগোকে নির্দেশ দেয়, রবিবার রাত ৮টার মধ্যে সমস্ত যাত্রীকে টাকা ফেরত দিতে হবে। সরকারি হিসেব, ইন্ডিগো এখন পর্যন্ত ৬১০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে, বাকি অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ৩,০০০-রও বেশি মালপত্র ফিরিয়ে দিয়েছে সংস্থা। তবু অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন বহু যাত্রী। তাঁদের বক্তব্য কেবল টাকা ফেরত পেলেই চলবে না, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।
আরও পড়ুন: Donald Trump Peace Prize: নোবেল না পেলেও ফিফার পুরস্কার! ট্রাম্প কি স্বপ্নপূরণের শর্টকাট নিলেন?
কোথায় ছিল বিভ্রাট?
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি মিললেও, ঘটনা অন্য কথা বলছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থায় এমন ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা তৈরি হল? পর্যাপ্ত কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন একসঙ্গে এত উড়ান বন্ধ হয়ে গেল? প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি লজিস্টিক ব্যর্থতা কোথায় গলদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্ডিগোর অপারেটিং মডেল অত্যন্ত ঘন এবং সময়নির্ভর। সামান্য ব্যত্যয়ও চেইন-রিঅ্যাকশনের মতো বিশাল বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে। ঠিক সেটাই হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।



