Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিনকয়েক আগেই হংকংয়ে বহুতলে আগুন লেগে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল (Morocco Buildings Collapse)। আর তার পরেই ফের বহুতল দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল মরক্কো। ফেজ শহরের অল-মুস্তাকবাল এলাকায় পাশাপাশি থাকা দু’টি চারতলা বিল্ডিং হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে প্রাণ হারান অন্তত ১৯ জন বাসিন্দা। গুরুতর ভাবে আহত হন আরও ১৬ জন। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা নয় এটি শহর-পরিকল্পনা, অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতার একটি নির্মম উদাহরণ।
ধ্বংসস্তূপে রাতভর উদ্ধার অভিযান (Morocco Buildings Collapse)
ঘটনার খবর পেয়েই মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় আধিকারিক, নিরাপত্তাকর্মী ও নাগরিক সুরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারে রাতভর অভিযান চলে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভেঙে পড়া বিল্ডিং দুটির বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই ফাটল দেখা গিয়েছিল। অথচ সেই ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আটটি পরিবারের বসবাস ছিল ওই দু’টি বাড়িতে যাদের রাতের ঘুমই শেষ ঘুমে পরিণত হল।

অবহেলার দীর্ঘ ছায়া (Morocco Buildings Collapse)
বহুতলগুলি বহুদিন ধরেই অবহেলায় পড়ে ছিল বাসিন্দাদের এমন অভিযোগ নতুন নয়। পরিকাঠামোগত দুর্বলতা, সঠিক মেরামত না হওয়া, প্রশাসনের নজরদারির অভাব মিলিয়ে ঘটনার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বুধবারের এই দুর্ঘটনার পর তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, কোনও পূর্ব সতর্কতা কি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল এবং সেই সতর্কতাকে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না।
ফেজ শহরের অস্থিরতা (Morocco Buildings Collapse)
অষ্টম শতকে প্রতিষ্ঠিত মরক্কোর প্রাচীন রাজধানী ফেজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সঘন জনবসতির এক অনন্য শহর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফেজ উত্তাল ছিল অন্য কারণে। মাত্র দুই মাস আগেই জীবনযাত্রার অবনতি, বেকারত্ব এবং জনসেবা প্রদানে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগে দেশজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার ঢেউ ফেজেও পৌঁছায়। তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন গ্রামীণ শহরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু জায়গায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিরাপত্তা হেডকোয়ার্টারে হামলার চেষ্টা চলাকালীন তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার হন ৪০০-রও বেশি মানুষ। এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা প্রশাসনিক অস্থিরতাকে আবারও সামনে এনে দিল।
গোড়ায় গলদ (Morocco Buildings Collapse)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেজ সহ মরক্কোর বিভিন্ন শহরে পুরনো বাড়িগুলি পুনর্নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। ঘনবসতি, অনিয়ন্ত্রিত শহর সম্প্রসারণ, বিল্ডিং কোড না মানা সব মিলিয়ে এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। ফেজের ঘটনা তাই কোনও বিচ্ছিন্ন বিপর্যয় নয়; বরং দেশের অব্যবস্থার একটি প্রতিচ্ছবি।
নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া প্রচেষ্টা (Morocco Buildings Collapse)
উদ্ধারকারী দল এদিন সারাদিন ভেঙে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে ব্যস্ত ছিলেন। এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘণ্টা যেন আরও আশা কমিয়ে দিচ্ছে। চাপা শ্বাস, ধুলোর গন্ধ ও অপেক্ষার দীর্ঘ অবসাদ—ঘটনার স্থানে যেন মৃত্যুর হিমশীতল ছায়া।
আরও পড়ুন: Christmas Celebration: ক্রিসমাসে বাঙালি কেন পার্ক স্ট্রিটে হেঁটে বেরায়?
ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ ট্র্যাজেডি
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মনে পড়ে যায় গত সেপ্টেম্বর মাসের আরেক মর্মান্তিক দৃশ্য। ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামিক স্কুলে নমাজ পড়ার সময়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল স্কুলবাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ৬৫ জন পড়ুয়া। উদ্ধার হয় বহু শিশুর ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরে জানা যায়, ভবনটির নির্মাণ চলছিল এবং বহু বিশেষজ্ঞই একে বেআইনি নির্মাণ বলেছিলেন। অবহেলা, ত্রুটিপূর্ণ স্থাপত্য এবং নির্মাণ আইন ভঙ্গের ফল শতাধিক কোমল প্রাণের মৃত্যু।



