Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ যেন দিনে দিনে আরও নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী রূপ নিচ্ছে (Myanmar)। সংঘর্ষের আগুন এবার ছড়িয়ে পড়ল এমন এক স্থানে, যা যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ বলে ধরা হয় হাসপাতাল। সীমান্তঘেঁষা রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সামরিক জান্তার বোমা হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মুহূর্তেই মৃত্যু হয় অন্তত ৩১ জনের, আহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বহু তলা হাসপাতালটি। এ হামলা শুধু একটি ভবন নয় মানবতার মূল ভিত্তিকেই আঘাত করেছে।

কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহতা? (Myanmar)
ঘটনাস্থলে থাকা ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন আউং-এর বর্ণনায় উঠে এসেছে বাস্তবের চেয়েও ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য। তিনি জানান একটি সামরিক যুদ্ধবিমান সরাসরি হাসপাতালে বোমা বর্ষণ করে। প্রথম বোমাটি পড়ে রিকভারি ওয়ার্ডে, যেখানে অস্ত্রোপচারের পর থাকা বহু রোগী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারান। দ্বিতীয় বোমাটি আঘাত করে হাসপাতালের মূল ভবনে, যার নিচে চাপা পড়ে আরও বহু মানুষ। ওয়াই হুন আউং বলেন, “পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। মরদেহ সরানোর সুযোগ পর্যন্ত নেই। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।” যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। হতাহতের সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়তে থাকে।
সামরিক বাহিনীর নীরবতা (Myanmar)
এ হামলার পরও কোনও বিবৃতি দেয়নি মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক যোগাযোগেও সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নিজেদের ক্ষমতার আধিপত্য দেখাতে এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলের জন্য জান্তা কোনও পথকেই বাদ দিচ্ছে না এমনকি হাসপাতালের ওপর হামলাও।

কেন বেড়েছে হামলা? (Myanmar)
জুন্টা সরকার ঘোষণা করেছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনই সংঘর্ষের ইতি টানবে।
কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বক্তব্য সম্পূর্ণ উল্টো। তারা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনও নির্বাচনই হতে দেবে না। ফলে নির্বাচনের আগেই সামরিক বাহিনী শুরু করেছে দখল পুনরুদ্ধারের অভিযান। রাখাইন, কাচিন, চিনসহ বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় চলছে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল আক্রমণ। ম্রাউক-ইউ হাসপাতাল হামলা সেই প্রবণতারই ভয়াবহ উদাহরণ।

ভোরের কাউন্টারে মৃত্যু (Myanmar)
বৃহস্পতিবার ভোরে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করে, ১৭ জন পুরুষ, ১৭ জন নারী, হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারীসহ অনেকে এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপ তল্লাশি চালালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা। হাসপাতালের প্রায় সব ভবনই ভেঙে পড়েছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সি, মোটরসাইকেল সবই ধ্বংস। রোগীদের বেড, ওষুধ, নথিপত্র, অক্সিজেন সিলিন্ডার সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিস্ফোরণের পর।
আরও পড়ুন: South Kolkata Fire: গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার বিধ্বংসী আগুন
সংকটে ডুবছে রাখাইন রাজ্য
হাসপাতাল সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়। যুদ্ধের মাঝেও সাধারণত হাসপাতাল ও অ্যাম্বুল্যান্সকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন রক্ষা করে থাকে। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা সেই আইনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন বহুদিন ধরেই সঙ্কটে। এবার সেই সংকট আরও গভীর হলো। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আহতদের অনেককেই নিকটবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ত্রাণকর্মীরা বলছেন অঞ্চলটিকে এখন ‘মানবিকভাবে মৃতপ্রায়’ বলা যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হামলার কঠোর নিন্দা করেছে এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে চাপ সত্ত্বেও জান্তা সরকারের নীতি পরিবর্তনের কোনও লক্ষণ নেই।



