Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কেরালার তিরুবনন্তপুরমে আয়োজিত ৩০তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ কেরালা (Kerala Film Festival) এ বছর শুধু সিনেমার জন্য নয়, বরং এক অদ্ভুত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণেও শিরোনামে উঠে এল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরে আংশিকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সব মিলিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শিল্পস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে।

হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা ও বিস্ময়ের শুরু (Kerala Film Festival)
ফেস্টিভ্যাল চলাকালীন আচমকাই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে ১৯টি বিদেশি সিনেমা প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিস্ময় তৈরি হয় কারণ, ভারতের কোনও ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সাধারণত সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র প্রয়োজন হয় না। তবে একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক অনুমোদন লাগে—যা এতদিন রুটিন প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচিত ছিল। এই অনুমোদন আটকে দেওয়ার ফলেই উৎসবের মাঝপথে একাধিক সিনেমার স্ক্রিনিং নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

কোন কোন সিনেমা নিয়ে আপত্তি? (Kerala Film Festival)
যে সিনেমাগুলির প্রদর্শন বন্ধ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছবি। প্যালেস্তাইনের সিনেমা ‘প্যালেস্তাইন ৩৬’, ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন গাজ়া’, এমনকি বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক অনন্য নিদর্শন সের্গেই আইজেনস্টাইনের ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’-এর মতো ছবিও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একই সময়ে ভারতের ছবি ‘হোমবাউন্ড’ ৯৮তম অস্কারের বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সিনেমার এমন বাছবিচার আরও প্রশ্নের জন্ম দেয়।
‘কেন নিষেধাজ্ঞা?’ (Kerala Film Festival)
সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি ছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে নিষেধাজ্ঞার কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। আইএফএফকে-র আয়োজকদের অভিযোগ, কোনও স্পষ্ট নীতি বা ধারাবাহিকতার বদলে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন সিনেমা কেন ছাড়পত্র পেল না, তার কোনও লিখিত ব্যাখ্যা বা যুক্তি সামনে আসেনি। এই অনিশ্চয়তা এবং অস্বচ্ছতাই মূলত ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (Kerala Film Festival)
নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আইএফএফকে-র আয়োজকরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। সেই সঙ্গে কেরালার রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছাড়পত্র না পেলেও উৎসবের নির্ধারিত সূচি মেনেই সিনেমাগুলি দেখানো হবে। তাঁর এই মন্তব্য কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে তোলে এবং বিতর্ককে রাজনৈতিক রঙ দেয়।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: ব্যবসায়ীদের সমস্যা-সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর
তবু অনিশ্চয়তা
প্রবল চাপ ও বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ১২টি সিনেমার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা আসে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পুরোপুরি সমাধান হয়নি সমস্যা। এখনও ছাড়পত্র না পাওয়া ছয়টি সিনেমা নিয়েই জটিলতা রয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কেরালা সরকার সব সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারে সম্মতি দেয় এবং আয়োজকরাও জানান, বাকি সিনেমাগুলির স্ক্রিনিংও করা হবে।



