Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয় (Bangladesh Unrest)। তবে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। সেই উত্তপ্ত আবহেই ফের রক্তপাত এ বার গুলিবিদ্ধ হলেন আরও এক ছাত্রনেতা মোতালেব শিকদার। একের পর এক হিংসার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
হাসপাতালে মোতালেব শিকদার (Bangladesh Unrest)
সোমবার দুপুরে খুলনার সোনাডাঙা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক শাখার নেতা মোতালেব শিকদার। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা সোয়া ১২টা নাগাদ একটি বাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থায় তাঁর মাথার বাঁ দিকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে দলীয় সূত্রে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথা থেকে বুলেট বের করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোতালেবের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
কে এই মোতালেব শিকদার? (Bangladesh Unrest)
৪২ বছর বয়সি মোতালেব শিকদার ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির খুলনা ডিভিশনের কনভেনর। জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে, দিনকয়েকের মধ্যেই খুলনায় দলের একটি শ্রমিক মিছিল হওয়ার কথা ছিল। সেই মিছিলের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কাজ দেখভাল করছিলেন মোতালেব। সেই সময়েই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
তার পরবর্তী বিস্ফোরণ (Bangladesh Unrest)
এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। কয়েক দিন আগেই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুই কার্যত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থি তিতে বিস্ফোরক পরিস্থিতির সূচনা করে। গত শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের কবরস্থান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি-সংলগ্ন এলাকায় ওসমান হাদিকে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। শোক মুহূর্তেই রূপ নেয় ক্ষোভে।
সংসদ ভবন ঘেরাও, রাতভর উত্তেজনা (Bangladesh Unrest)
জানাজা শেষ হতেই সন্ধ্যার পর জনতার ভিড় ঘিরে ধরে ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের সংসদ ভবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে আসে। সেই রাত থেকেই কার্যত প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা, বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।
আরও পড়ুন: James Ransone Death: অভিনেতা জেম্স রেনসোনের অকালপ্রয়াণ, হঠাৎ কী এমন হল?
প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
ওসমান হাদি হোক বা মোতালেব শিকদার দু’টি ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা ‘অজ্ঞাতপরিচয়’। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক হিংসার এই ধারাবাহিকতা কি পরিকল্পিত? প্রশাসনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্র ও শ্রমিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে যে সশস্ত্র সংঘাতের প্রবণতা বাড়ছে, তা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী আন্দোলন, দলীয় কোন্দল এবং ক্ষমতার লড়াই একসঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ছাত্রনেতা ও শ্রমিক সংগঠকদের উপর ধারাবাহিক হামলা সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



