Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেড় থেকে দু’বছরের নিরলস পরিশ্রম, সুঁচ-সুতোর নিপুণ হাতের ছোঁয়া আর অসাধারণ শিল্পবোধ এই তিনের মেলবন্ধনে তৈরি নকশি কাঁথা শাড়ি এখন পৌষ মেলায় সকলের নজর কেড়েছে (Poushmela Saree)। শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলায় রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্প দফতরের স্টলে প্রদর্শিত এই শাড়িগুলি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
সুঁচের ফোঁড়ে সরকারি প্রকল্প (Poushmela Saree)
এই নকশি কাঁথা শাড়ির বিশেষত্ব হল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভাবনা ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ম কাঁথা সেলাইয়ের নকশায়। রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে অভিনবভাবে তুলে ধরা হয়েছে রামায়ণ কথাও। প্রতিটি শাড়িই যেন গল্প বলে, শিল্পীর অনুভূতি ও সমাজচিন্তার মেলবন্ধন ঘটিয়ে।
ক্রেতাদের প্রিয় নকশি কাঁথা শাড়ি (Poushmela Saree)
বোলপুরের নতুনপুকুর এলাকার শিল্পী মমতাজ বিবি জানান, “গত কয়েক বছর ধরে নকশি কাঁথার চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। একটি নকশি কাঁথা শাড়ি তৈরি করতে প্রায় দু’ থেকে তিন বছর সময় লাগে। তবে এ বছর রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পকে বিষয়বস্তু করে নকশা করা হয়েছে, যা ক্রেতাদের খুব পছন্দ হচ্ছে।”
শাড়ির দাম দু’লক্ষ! (Poushmela Saree)
সূক্ষ্ম কারুকার্য ও দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়ার কারণে এই শাড়িগুলির মূল্যও যথেষ্ট বেশি। মমতাজ বিবি জানান, নকশি কাঁথা শাড়ির দাম দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আগের বছর একটি নবদুর্গা থিমের নকশি কাঁথা শাড়ি বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকায়—যা এই শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দৃষ্টান্ত।
শিল্পের ভাষায় ভাব প্রকাশ
শিল্পী আরও জানান, তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দু’বার আমেরিকাতেও গিয়েছেন। “সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রচুর সাহায্য পাই। সেই কারণেই এই শিল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারছি,” বলেন তিনি। ধর্ম ও জাতির ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের ভাষায় ভাব প্রকাশ এই বার্তাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে নকশি কাঁথা শাড়ি।

আরও পড়ুন: Bangladesh: নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতেই হাদিকে খুন: ইউনুস সরকারকে হুঁশিয়ারি হাদির দাদার
শাড়িতে ফুটে ওঠে রামায়ণের দৃশ্য (Poushmela Saree)
অন্য ধর্মের নারী হয়েও নিজের হাতে সুচ-সুতো দিয়ে রামায়ণ কথার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা প্রসঙ্গে মমতাজ বিবি বলেন, “শিল্পীর কোনো জাত হয় না। এক একটি কাজ শেষ করতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। মানুষ যখন এসে আমার কাজের প্রশংসা করেন, তখন খুব ভালো লাগে।” পৌষ মেলায় এই নকশি কাঁথা শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয় এ যেন বাংলার ঐতিহ্য, শ্রম, শিল্প আর সামাজিক বার্তার এক অনন্য নিদর্শন।



