Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাঁশকুড়ার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসুস্থ শিশু। এক হাতে মেয়ের হাত ধরে অন্য হাতে মোবাইল ফোনে ভোটার তালিকার কাজ সামলাচ্ছেন এক বাবা। দৃশ্যটি পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ১৭২ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) অতনু জানার। একদিকে গুরুতর অসুস্থ মেয়েকে সামলানো, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কড়া চাপ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নাজেহাল দশা এই বিএলও-র।
‘অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও’ নিয়োগের দাবি (BLO)
সম্প্রতি রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের গরমিল নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। অতনু জানর বুথও এর ব্যতিক্রম নয়। খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁর বুথের ৭৪ জন ভোটারকে পুনরায় নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভোটাররা গত বুধবার অতনু জানাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভও দেখান। কিন্তু প্রশাসনিক চাপে ব্যক্তিগত শোক বা সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার অবকাশ নেই তাঁর (BLO)। এখন শুনানি বা ‘হিয়ারিং’ পর্ব শুরু হওয়ায় তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। অগত্যা মেয়ের শিয়রে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটারদের তথ্য আপলোড করছেন তিনি।
আরও পড়ুন:Election Commission: ভবিষ্যতে ভোটার বিভ্রান্তি রোধে নির্বাচন কমিশন আরও উদ্যোগ নেবে?
অতনু জানা ও তাঁর সহকর্মীদের অভিযোগ, বিএলও-দের (BLO) ওপর কাজের চাপ এখন সহ্যের অতীত। একদিকে শিক্ষকতা বা অন্যান্য পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে ভোটার তালিকার কাজে বাড়ি বাড়ি ঘোরা ও অনলাইন এন্ট্রি—সব মিলিয়ে তাঁরা কার্যত বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের মতো এখানেও ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও’ (Assistant BLO) নিয়োগ করা হোক। বিহারে এই অতিরিক্ত কর্মী থাকার ফলে মূল বিএলও-দের ওপর কাজের চাপ অনেকটাই কমে এবং নির্ভুলভাবে কাজ করা সম্ভব হয়।
পাঁশকুড়ার এই দৃশ্য বিএলও-দের (BLO) অমানবিক পরিশ্রমের এক করুণ ছবি তুলে ধরেছে। স্বপন মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ বারবার দাবি করেছে যে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা সার্ভারের সমস্যার দায় বিএলও-দের ওপর চাপানো অনুচিত। অতনু জানার মতো হাজার হাজার বিএলও এখন তাকিয়ে আছেন কমিশনের দিকে, কবে মিলবে এই অসহনীয় কাজের চাপ থেকে মুক্তি এবং কবে চালু হবে সহায়ক কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা?


