Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ পয়লা জানুয়ারি, নতুন বছরের (Ramakrishna Kalpataru) সূচনা। এই দিনটি শুধু ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবেই নয়, বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত পবিত্র ও স্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনেই শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিতে প্রতিবছর জানুয়ারির প্রথম দিনে পালিত হয় কল্পতরু উৎসব।
‘কল্পতরু’ শব্দের অর্থ (Ramakrishna Kalpataru)
‘কল্পতরু’ শব্দের অর্থ ইচ্ছাপূরণকারী (Ramakrishna Kalpataru) বৃক্ষ। পুরাণ মতে, কল্পতরু সেই অলৌকিক বৃক্ষ যা ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করে। রামকৃষ্ণদেবের জীবনে পয়লা জানুয়ারি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এই দিন তিনি অসংখ্য ভক্তকে দর্শন ও আশীর্বাদ দিয়ে তাঁদের জীবনে আধ্যাত্মিক আলোর সঞ্চার করেছিলেন। তাঁর উপস্থিতি, দৃষ্টি ও কথায় ভক্তরা অনুভব করেছিলেন এক গভীর আত্মিক পরিবর্তন।

রামকৃষ্ণদেব ভক্তদের কাছে উপস্থিত হন (Ramakrishna Kalpataru)
১৮৮৬ সালের পয়লা জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটীতে (Ramakrishna Kalpataru) গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও রামকৃষ্ণদেব ভক্তদের কাছে উপস্থিত হন। সেদিন বহু গৃহী ও সন্ন্যাসী ভক্ত তাঁর দর্শন লাভ করেন। প্রত্যেকের দিকে তাকিয়ে তিনি যেন নিজ নিজ অন্তরের কামনা বুঝে নিচ্ছিলেন। অনেক ভক্তের মতে, সেদিন ঠাকুর তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেছিলেন-কেউ পেয়েছিলেন ভক্তির দান, কেউ বা আত্মিক সাহস ও শান্তি।
“তোমাদের চৈতন্য হোক।”
কাশীপুর উদ্যানবাটীতে ভক্তদের উদ্দেশে রামকৃষ্ণদেব যে আশীর্বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়-“তোমাদের চৈতন্য হোক।” এই বাক্য যেন শুধু একটি আশীর্বাদ নয়, বরং মানবজীবনের উদ্দেশ্যের প্রতি এক গভীর ইঙ্গিত। তাঁর এই বাণী থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে প্রতি বছর কল্পতরু উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: Japan Earthquake: বর্ষবরণের আগেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান!
রামকৃষ্ণের গৃহী ভক্তদের বিশ্বাস, সেই দিন তিনি কল্পতরুর মতোই তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করেছিলেন। সংসারের মধ্যেও ঈশ্বরলাভের পথ দেখিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর সন্ন্যাসী ভক্তদের মতে, সেদিন ঠাকুর তাঁদের অভয় দান করেছিলেন-জীবনের ভয়, সংশয় ও দ্বিধা কাটিয়ে নির্ভীকভাবে আত্মসাধনার পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।


