Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের শুরুতেই আশ্চর্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিন। সরকার কনডম ও অন্যান্য গর্ভনিরোধক পণ্যের ওপর ১৩ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আরোপ করেছে (China)। এর ফলে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা করমুক্ত গর্ভনিরোধ সুবিধার অবসান ঘটল। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন দেশটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন জন্মহারের সঙ্কটে ভুগছে।
সস্তা ও সহজলভ্য গর্ভনিরোধক (China)
১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে চিনে কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ভ্যাটমুক্ত ছিল। সে সময় কঠোর পরিবার পরিকল্পনা নীতির অংশ হিসেবে এক সন্তান নীতিকে কার্যকর করতে গর্ভনিরোধক সহজলভ্য ও সস্তা রাখা ছিল রাষ্ট্রের কৌশল। বড় পরিবার নিরুৎসাহিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
তিন বছর ধরে জনসংখ্যা কমছে
কিন্তু সময় বদলেছে। এখন চিন জনসংখ্যাগত সঙ্কটের পুরোপুরি উল্টো দিকে। টানা তিন বছর ধরে জনসংখ্যা কমছে, জন্মহার দ্রুত নিম্নমুখী, আর সরকার মরিয়া হয়ে দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এজন্য শিশু পরিচর্যা কর ছাড়, নগদ সহায়তা এবং বাড়তি প্যারেন্টাল লিভের মতো নানা আকর্ষণীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
“ফ্রি বার্থ” কৌশল (China)
এরই অংশ হিসেবে চালু হয়েছে তথাকথিত “ফ্রি বার্থ” কৌশল। এই পরিকল্পনার আওতায় জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব ও গর্ভকালীন চিকিৎসার পুরো খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে নগদ ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে প্রতি সন্তানের জন্য প্রথম তিন বছর বছরে ৩,৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৫১৫ মার্কিন ডলার)।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংশয় (China)
তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। তাদের মতে, এসব সুবিধা সন্তান জন্মের প্রাথমিক খরচ কিছুটা কমালেও শিক্ষা ব্যয়, আবাসন সঙ্কট এবংচিনের কুখ্যাত “৯৯৬” (সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, সপ্তাহে ৬ দিন) কর্মসংস্কৃতির মতো দীর্ঘমেয়াদি চাপের সমাধান হবে না।
চিন জোর দিচ্ছে স্বয়ংক্রিয়করণে (China)
একই সঙ্গে, কমে আসা শ্রমশক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় চিন জোর দিচ্ছে স্বয়ংক্রিয়করণে। সরকার “এমবডিড এআই” ও মানবসদৃশ রোবটিক্সে বিশ্বনেতা হতে চায়। লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যেই কারখানা, লজিস্টিকস এমনকি বৃদ্ধসেবায় রোবটের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়িয়ে মানবশ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো।



