Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন বছরের প্রথম দিনই শোকের ছায়া নেমে এল বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকায় (Car Accident Bardhaman)। এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের করুণ মৃত্যু হল। দুর্গাপুর থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি চারচাকা গাড়ির সঙ্গে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা তেলের ট্যাংকারের সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাবা-মা ও তাঁদের যুবক ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন গাড়ির চালক।

কর্মস্থলে ফেরার পথে… (Car Accident Bardhaman)
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ শাহনাওয়াজ (২৭), তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মুর্শেদ (৫৫) এবং মা রেজিনা খাতুন (৫১)। তাঁরা সকলেই দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের বাসিন্দা। শেখ শাহনাওয়াজ কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকতেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন এবং বৃহস্পতিবারই কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তাঁর। ছেলেকে বিদায় জানাতে বাবা-মা নিজেরাই গাড়িতে করে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই শেষ যাত্রাই যে তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে উঠবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
শক্তিগড়ে ভয়ংকর সংঘর্ষ (Car Accident Bardhaman)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে শক্তিগড় থানা এলাকার জাতীয় সড়কে। দুর্গাপুর থেকে দমদম বিমানবন্দরের দিকে আসার সময় আচমকাই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তেলের ট্যাংকারে সজোরে ধাক্কা মারে চারচাকা গাড়িটি। সংঘর্ষের তীব্রতায় বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হাসপাতালে নিয়ে যেতেই মৃত্যু ঘোষণা (Car Accident Bardhaman)
স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি থেকে আহতদের উদ্ধার করা হয়। গাড়ির চালক সাহেব মুন্সী-সহ সকলকে দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা সেখানে পৌঁছনোর পরই শেখ মহম্মদ মুর্শেদ, রেজিনা খাতুন ও তাঁদের ছেলে শেখ শাহনাওয়াজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চালক সাহেব মুন্সীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: Army Operation Poonch: পুঞ্চে ফের একবার বড় সাফল্য সেনার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সন্ত্রাসী আস্তানা!
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল গাড়ির গতি, দৃশ্যমানতা, নাকি ট্যাংকারের পার্কিং নিয়ম লঙ্ঘন সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শক্তিগড় থানার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।



