Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতির পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি বাজারেও বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে (Venezuela)। মার্কিন নেতৃত্বে ভেনেজ়ুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলির দখল বা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতের জন্য একাধিক কৌশলগত ও আর্থিক সুযোগের দরজা খুলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বকেয়া উদ্ধার থেকে শুরু করে তেল উৎপাদন ও আমদানি পুনরায় শুরু সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিকে ভারতীয় শক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিষেধাজ্ঞার জেরে বন্ধ (Venezuela)
এক সময় ভেনেজ়ুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ছিল ভারত। সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৈনিক চার লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি তেল আমদানি হতো এই দক্ষিণ আমেরিকার দেশ থেকে। ভারতের বেশ কয়েকটি বড় পরিশোধনাগারে এই ধরনের ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের উপযুক্ত প্রযুক্তি থাকায়, ভেনেজ়ুয়েলার তেল বাণিজ্যিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক ছিল। কিন্তু আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাড়তে থাকা কমপ্লায়েন্স ঝুঁকির কারণে ২০২০ সালের পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এই আমদানি। এর ফলে শুধু জ্বালানি সরবরাহেই নয়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বিনিয়োগও বড় ধাক্কা খায়।
স্যান ক্রিস্টোব্যাল তেলক্ষেত্র (Venezuela)
ভেনেজ়ুয়েলার পূর্বাঞ্চলের স্যান ক্রিস্টোব্যাল তেলক্ষেত্রে এখনও যৌথভাবে কাজ করে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড (ওভিএল)। এই স্থলভিত্তিক তেলক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কূপ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে দৈনিক ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উৎপাদন সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দাবি। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও পরিষেবা আমদানি করা যায়নি। তার জেরে বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে দিনে মাত্র পাঁচ থেকে দশ হাজার ব্যারেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজরাটে ওএনজিসির ব্যবহৃত রিগগুলির মতো আধুনিক রিগ যদি স্যান ক্রিস্টোব্যালে পাঠানো যায়, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
আটকে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার (Venezuela)
ভারতের লাভের সবচেয়ে বড় দিকটি লুকিয়ে রয়েছে আর্থিক হিসেবেই। ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্যান ক্রিস্টোব্যাল তেলক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ওভিএল-এর প্রাপ্য ছিল ৫৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই অর্থ আজও ভেনেজ়ুয়েলা শোধ করেনি। পরবর্তী সময়ের জন্যও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। কারাকাসের তরফে হিসেব পরীক্ষার অনুমতি না দেওয়ায় এতদিন এই বকেয়া নিষ্পত্তির কোনও পথ খোলা যায়নি। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে এবং তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন স্বাভাবিক হলে, প্রায় এক বিলিয়ন ডলার উদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পিডিভিএসএ পুনর্গঠনের সম্ভাবনা (Venezuela)
স্যান ক্রিস্টোব্যালের পাশাপাশি ক্যারাবোবো-১ তেলক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত। এই প্রকল্পে ওভিএল-এর ১১ শতাংশ এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের ৩.৫ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদার ভেনেজ়ুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোলিয়োস দে ভেনেজ়ুয়েলা এসএ (পিডিভিএসএ)। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন হস্তক্ষেপের পরে পিডিভিএসএ পুনর্গঠনের মুখে পড়তে পারে। এমনকি সংস্থাটির অংশীদারিত্ব কোনও মার্কিন সংস্থা বা নতুন কর্পোরেট কাঠামোর হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ওভিএল বা স্পেনের রেপসোলের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের অংশীদারিত্ব বজায় রেখেই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: অমিত শাহের বৈঠকের পরেই মুখ বন্ধ দিলীপ ঘোষের!
কেন ভারতের প্রয়োজন ভেনেজ়ুয়েলার তেল
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের কাছে ভেনেজ়ুয়েলার তেল ফের পাওয়া মানে শুধুই সরবরাহ বৃদ্ধি নয়। এর মাধ্যমে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে, জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আসবে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার সুযোগ বাড়বে, চিনের একচেটিয়া প্রভাব কিছুটা হলেও খর্ব করা যাবে, বিশেষ করে ভারতের পরিশোধনাগারগুলির ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা ভেনেজ়ুয়েলার তেলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।



