Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত সরকার চিনা সংস্থাগুলির উপর আরোপিত পাঁচ বছর পুরোনো সরকারি টেন্ডার সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে(Indo China)। সীমান্তে উত্তেজনা কমে আসা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
চিনা সংস্থার জন্য কঠোর নিয়ম (Indo China)
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত সরকার চিনা সংস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করে। সেই অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে দরপত্র জমা দিতে হলে চিনা কোম্পানিকে একটি বিশেষ সরকারি কমিটিতে নথিভুক্ত হতে হত এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হত। এর ফলে কার্যত প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের সরকারি প্রকল্প থেকে চিনা সংস্থাগুলি বাদ পড়ে।
বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রক বর্তমানে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতর। এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রীর দফতর এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
একাধিক প্রকল্পে দেরি ও সরঞ্জামের ঘাটতি (Indo China)
নিষেধাজ্ঞার ফলে একাধিক প্রকল্পে দেরি ও সরঞ্জামের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালের পর চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআরআরসি একটি ২১৬ মিলিয়ন ডলারের ট্রেন নির্মাণ প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে চিনা যন্ত্রাংশ আমদানিতে বাধা পড়ায় আগামী দশকে ভারতের তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০৭ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুপারিশ (Indo China)
প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুপারিশ করেছে। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে চিনা সংস্থাকে দেওয়া নতুন প্রকল্পের মূল্য আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমে যায়। এই খবরে বাজারে প্রভাব পড়ে। বিএইচইএল-এর শেয়ার ১০.৫ শতাংশ এবং এল অ্যান্ড টি-র শেয়ার ৩.১ শতাংশ কমে যায়।
আরও পড়ুন: Indian Forts: ভারতে কোন কোন দুর্গ যুদ্ধে জয় করা যায়নি, জেনে নিন সেই কাহিনী
বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্য (Indo China)
গত বছর সাত বছর পর চিন সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও, চিনা সংস্থার বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এখনও বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা অনিশ্চিত থাকায় ভারত-চিন সম্পর্ক আরও উষ্ণ হতে পারে।



