Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার রাজনীতি বরাবরই গল্পপ্রিয়। কখনও আন্দোলনের গল্প, কখনও বঞ্চনার কথা (Ranjit Mallick), আবার কখনও পরিবর্তনের স্বপ্ন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস সেই চেনা ধারাতেই নতুন এক রাজনৈতিক আখ্যান হাজির করেছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। এটি নিছক কোনও রিপোর্ট কার্ড নয়, বরং গত ১৫ বছরে রাজ্যের শাসনকালের সাফল্যকে মানুষের আবেগ ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে বলার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস।

উন্নয়নের পাঁচালি কী (Ranjit Mallick)
‘উন্নয়নের পাঁচালি’ মূলত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শাসনকালে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তার একটি সামগ্রিক নথি। তবে এটি কেবল সংখ্যার হিসেব নয়। এই পাঁচালির বাক্সে রয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পরিকাঠামোর অগ্রগতির তথ্য, নারী ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক মানুষের জন্য নেওয়া প্রকল্পের বিবরণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে লেখা চিঠি, এই সমস্ত উপাদান মিলিয়ে উন্নয়নকে কাগুজে পরিসংখ্যান থেকে বের করে এনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রঞ্জিত মল্লিক (Ranjit Mallick)
বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ তুলে দেওয়া নিছক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ নয়। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতীকের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে, রঞ্জিত মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির এক দীর্ঘস্থায়ী মুখ। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক। অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা, তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিককেও শ্রদ্ধা জানানো সব মিলিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেখানে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক সম্মানকে সামনে আনা হয়েছে।

সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে সংযোগ (Ranjit Mallick)
এর আগেই বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে উন্নয়নের পাঁচালি বাক্স। সাংসদ নাদিমুল হকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসে। একই দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দন যাত্রা এবং রাজ চক্রবর্তীর নতুন ছবি ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’-এর ডিরেক্টরস কাট প্রিভিউয়ে অংশ নেওয়ার খবর সাংস্কৃতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পায়। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দেয় তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে শিল্পীসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে, এবং উন্নয়নের আখ্যানকে সংস্কৃতির ভাষায় ছড়িয়ে দিতে।
বিশেষ টিম, ঘরে ঘরে প্রচার (Ranjit Mallick)
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। এই টিমে রয়েছেন, দলের সাংসদ ও বিধায়ক, জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব, বুথ স্তরের কর্মীরা, এই সংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে তৃণমূল নিশ্চিত করতে চাইছে, উন্নয়নের খতিয়ান যেন শুধু শহর বা বিশিষ্টজনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং গ্রাম থেকে শহর সব প্রান্তে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন: SIR: এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক দুই প্রাক্তন সাংসদ টুটু বোস-সৃঞ্জয়কে!
তিনবারের জয়, চতুর্থবারের লড়াই
তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজ সাথী’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্প রাজনীতিতে বারবার গেম চেঞ্জারের ভূমিকা নিয়েছে। তবে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ে দল বুঝেছে, শুধু নতুন প্রতিশ্রুতি নয় এবার ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হবে অতীতের কাজের পূর্ণ হিসেব। সেই হিসেবকেই গল্পের আকার দিয়ে হাজির করা হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নামে।



