Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যে শুধু কূটনৈতিক টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকে না (Kolkata Book Fair), তার প্রভাব পড়ে সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রেও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং পরবর্তী শুল্কবাণের জেরে দু’দেশের সম্পর্কে যে শৈত্য নেমে এসেছে, তার আঁচ এসে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তম সাহিত্য উৎসব কলকাতা বইমেলাতেও। বহু বছরের পরিচিত মুখ আমেরিকা এবছর বইমেলা থেকে সরে দাঁড়াল।

কেন নেই আমেরিকা? (Kolkata Book Fair)
আমেরিকার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে মার্কিন কনসুলেট নিজেই। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমেরিকা সরকার কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, “মার্কিন কনসুলেটের কর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় এবছর তারা বইমেলায় অংশ নিতে পারবে না।” অর্থাৎ, এটি কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিকল্পিত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফল।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক (Kolkata Book Fair)
কলকাতা বইমেলার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক নতুন নয়। বহু বছর ধরেই তারা নিয়মিত স্টল দিত এবং পাঠক-পাঠিকার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষত শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইংরেজি সাহিত্যে আগ্রহীদের কাছে মার্কিন স্টল ছিল আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। ২০১১ সালে কলকাতা বইমেলার থিম রাষ্ট্র ছিল আমেরিকা। এমনকি ২০১৭ সালেও তারা ফের থিম রাষ্ট্র হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনাও চলেছিল। সেই জায়গা থেকে এবছরের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশও নেই কেন? (Kolkata Book Fair)
আমেরিকার পাশাপাশি এবছরও কলকাতা বইমেলায় নেই বাংলাদেশ। তবে এই অনুপস্থিতির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। গিল্ডের তরফে জানানো হয়েছে, তারা কোনও সরকারি সংস্থা নয়। বাংলাদেশকে স্টল দেওয়ার জন্য আবেদনপত্র পাঠাতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনপত্র পাঠায়নি। ফলে স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের প্রথম উপস্থিতি (Kolkata Book Fair)
যেখানে একদিকে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে সরে দাঁড়াচ্ছে এক মহাশক্তি, সেখানে অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের প্রথমবার অংশগ্রহণ বইমেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষত এখনও তাজা, তবু সাহিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে ইউক্রেন। গিল্ডের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা অত্যন্ত খুশি যে ইউক্রেন এই প্রথম কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে। ইউক্রেনের শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচয়ের সুযোগ পাবেন বইপ্রেমীরা।” এই অংশগ্রহণ যেন প্রমাণ করে যুদ্ধের মধ্যেও সাহিত্য থেমে থাকে না।

আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
বাণিজ্য বিরোধ থেকেই কি সাংস্কৃতিক দূরত্ব?
প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের কম দামে রুশ তেল কেনা নিয়েই মূলত আপত্তি তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পর থেকেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়ে। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে, কিন্তু ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর ফলেই ধীরে ধীরে সম্পর্কের উষ্ণতা কমেছে এবং সেই শীতলতার প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতা বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক মঞ্চেও।



