Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের ভোটের আগে বঙ্গ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সিঙ্গুরে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Singur)। নিজের বক্তৃতায় তিনি শিল্প পুনঃস্থাপনের কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। মোদির এই সভা স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এটি তুমুল মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

জমি রক্ষা কমিটির প্রতিবাদ (Singur)
মোদির ভাষণের মধ্যেই সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে নামেন। তাদের দাবী ছিল ‘১০০ দিনের কর্মসূচি থেকে আবাস যোজনাসহ জনস্বার্থে থাকা বকেয়া টাকা কেন আটকে রাখা হয়েছে?’। সভার মঞ্চের অদূরে এই বিক্ষোভে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও উঠেছে। ফলে মোদির জনসভায় কিছুটা হলেও প্রতিক্রিয়ার ঝড় বইল।
বাংলার জমি আন্দোলনের ইতিহাস (Singur)
সিঙ্গুরের কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটা গোষ্ঠীর গাড়ি কারখানার জন্য এই উর্বর জমি কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন শিল্প বিস্তারের পৃষ্ঠপোষক। কৃষকরা জমি রক্ষার জন্য বড়সড় আন্দোলনে নামেন, যার নেতৃত্ব দিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে বামফ্রন্টকে পিছু হটতে হয় এবং সিঙ্গুরের প্রকল্প গুজরাটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এখনও এক অনিশ্চিত সম্ভাবনা (Singur)
সিঙ্গুরের জমির ক্ষতি পূরণ বা শিল্প পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা এখনও প্রায় অনিশ্চিত। মোদি এই জনসভায় টাটা কারখানার পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো ইঙ্গিত দেননি। ফলে সিঙ্গুরের কৃষক ও শ্রমিকরা তাদের দাবি পুনরায় তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখেননি।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: মোদির সিঙ্গুর সভা কি ছাব্বিশের ভোটের টার্নিং পয়েন্ট!
রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রতিক্রিয়া
সিঙ্গুরের বিভিন্ন গ্রামে সকাল থেকেই ‘গো ব্যাক মোদি’ পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিকেলে বাজেমেলিয়ার মাঠে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ চলে। এ নিয়ে সিঙ্গুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনন্দ মোহন ঘোষ মন্তব্য করেন, “প্রধানমন্ত্রী জুমলাবাজ। খালি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার এলে কাজ করবেন বলছেন, কিন্তু আদৌ কিছু করবেন না।”



