Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বইকে ঘিরে বাঙালির আবেগ চিরন্তন। সেই আবেগের সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় (Mamata Banerjee)। দুর্গাপুজোর পর বাংলার সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক সমাবেশ হিসেবে স্বীকৃত এই বইমেলা আবারও ফিরছে তার চিরচেনা মহিমা নিয়ে। আগামী ২২ জানুয়ারি, সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে (বইমেলা প্রাঙ্গণ) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। জ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে প্রস্তুত গোটা শহর।

আন্তর্জাতিক মাত্রায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (Mamata Banerjee)
এবারের বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কারণে (Mamata Banerjee)। উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গবেষক গুস্তাভো কানজোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো আগুস্তিন কউসিনো। বিশ্বসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এবং লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের সংযোগকে তুলে ধরতেই এই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সাহিত্য সাধনায় আজীবন স্বীকৃতি (Mamata Banerjee)
বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর গিল্ড লাইফটাইম লিটারারি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে বিশিষ্ট সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী-কে। এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২ লক্ষ টাকা। সাহিত্যচর্চায় নিষ্ঠা ও গভীরতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তারই স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান বইমেলার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সম্মান (Mamata Banerjee)
৩০ জানুয়ারি বইমেলায় পালন করা হবে প্রবীণ নাগরিক দিবস। এই দিনে কবি মৃদুল দাশগুপ্ত এবং দেশের অন্যতম বড় প্রকাশনা সংস্থা রূপা পাবলিকেশনের কর্ণধার রাজেন্দ্র কুমার মেহতা-কে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হবে। অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ভাণ্ডার যাঁদের হাতে বাংলা সাহিত্য ও প্রকাশনার পথচলা সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ।
কলকাতা লিটারারি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন (Mamata Banerjee)
বইমেলার সঙ্গে সমান্তরালভাবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনের কলকাতা লিটারারি ফেস্টিভ্যাল। এই সাহিত্য উৎসবে অংশ নেবেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট লেখক, চিন্তাবিদ ও শিল্পীরা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রখ্যাত লেখক অমিতাভ ঘোষ সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ-এর হাতে।
সংগীত ও নবপ্রজন্মের অংশগ্রহণ (Mamata Banerjee)
বইমেলা শুধু বইয়ের নয়, সংস্কৃতিরও উৎসব। ২৫ জানুয়ারি, সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করবে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। নবপ্রজন্মের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ বইমেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার বার্তা বহন করবে।
আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair 2026: এবার কলকাতা বইমেলায় বড় চমক! ১৫ বছর পর আসছে…
স্মরণ, শতবর্ষ ও ঐতিহ্যের উদযাপন
এবছরের বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্মরণ ও ঐতিহ্যচর্চায়। উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো, ২০১১ সালের পর প্রথমবার বইমেলায় অংশ নিচ্ছে চীন মহানায়ক উত্তম কুমার-কে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী, উদযাপন করা হবে ভূপেন হাজারিকা, সলিল চৌধুরী ও মহাশ্বেতা দেবী-র জন্মশতবর্ষ, এই স্মরণানুষ্ঠানগুলি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে। প্রায় ১,০০০টি স্টল নিয়ে এবছরের বইমেলা সাজানো হয়েছে। বইয়ের পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য স্টল, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, ফলে সব শ্রেণির মানুষের জন্য এই উৎসব উন্মুক্ত



