Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একেবারে তৃণমূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত আশা কর্মীরা ফের আন্দোলনের ময়দানে (Asha Workers Detained)। বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ী সম্মানিক এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানোর দাবিতে টানা ২৯ দিন ধরে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার পর বুধবার তাঁদের আন্দোলন পৌঁছয় নতুন মাত্রায়। কর্মসূচির নাম ‘স্বাস্থ্য ভবন অভিযান’। কিন্তু সেই অভিযান ঘিরেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ ও স্বাস্থ্য ভবন চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সরকারের বার্তা উপেক্ষা করেই মিছিল (Asha Workers Detained)
মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবনে এসে ডেপুটেশন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই বার্তা বা প্রচ্ছন্ন সতর্কতা উপেক্ষা করেই বুধবার ভোর থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার আশা কর্মী কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি একেবারেই স্পষ্ট, মাসিক স্থায়ী সম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করতে হবে, বহুদিনের সমস্ত বকেয়া অবিলম্বে মেটাতে হবে, অনিশ্চিত কাজের বদলে স্বীকৃত শ্রমিকের মর্যাদা দিতে হবে, আশা কর্মীদের বক্তব্য, “করোনা থেকে শুরু করে টিকাকরণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সব জায়গাতেই আমাদের ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ প্রাপ্য সম্মান আজও অধরা।”
দুর্গে পরিণত সল্টলেক (Asha Workers Detained)
আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছনো ঠেকাতে বুধবার সকাল থেকেই বিধাননগর পুলিশ মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেক্টর ফাইভ ও স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে বসানো হয় বিশাল লোহার ব্যারিকেড। বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। যখন মিছিল স্বাস্থ্য ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন প্রথম দফাতেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। ব্যারিকেডের সামনে শুরু হয় তীব্র বচসা। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে দ্রুতই। একাধিক আশা কর্মী ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পুলিশের মাইকিং “শান্ত থাকুন, বিশৃঙ্খলা করবেন না” পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুন: Greenland: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুমকি, ইউরোপ জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ধস্তাধস্তি, স্লোগান ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ (Asha Workers Detained)
পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যেতে থাকে। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য ছিল, “ডেপুটেশনের জন্য যদি কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে, তা দেখাতে হবে। এভাবে বিশৃঙ্খলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উদাহরণ নয়।” এর পাল্টা স্লোগান ওঠে আন্দোলনকারীদের গলা থেকে, “আমাদের পেটে খিদে, পেটে লাথি মারলে আন্দোলন এভাবেই হবে।” এই স্লোগানেই যেন ধরা পড়ে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা।
অবরুদ্ধ সড়ক, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
স্বাস্থ্য ভবনের মূল গেটে পৌঁছতে না পেরে আন্দোলনকারীরা রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর জেরে সেক্টর ফাইভ ও সল্টলেকের সংযোগকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে অবরুদ্ধ থাকে পথ, ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ। তবে আন্দোলনকারী নেতৃত্বের বক্তব্য, “সরকার যতক্ষণ না লিখিতভাবে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”



