Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রশাসনে ফের বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (School Education)। রাজ্যের সমস্ত স্পনসর্ড স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং ‘পার্সনস ইন্টারেস্টেড ইন এডুকেশন’ (PIE)-দের নিয়োগ বাতিল করে দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। বুধবার বিকাশ ভবন থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে রাজ্যের বহু স্কুলের প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধাক্কায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।

কী বলা হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায়? (School Education)
শিক্ষা দফতরের সেকেন্ডারি ব্রাঞ্চ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১৯৭২ সালের ‘রুলস ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অফ স্পনসর্ড ইনস্টিটিউশন (সেকেন্ডারি)’ অনুযায়ী যাঁরা সভাপতি এবং PIE হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের সমস্ত মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি চিঠির উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সেই চিঠিতে কী কারণ দেখানো হয়েছে, তা সরকারি নির্দেশিকায় বিশদে জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরিচালন সমিতির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল বলে শিক্ষা মহলের একাংশের দাবি।
স্কুল পরিচালনায় যাতে অচলাবস্থা না হয় (School Education)
সরকারি নির্দেশে শুধু নিয়োগ বাতিল করেই থেমে থাকেনি শিক্ষা দফতর। একই সঙ্গে জেলার সমস্ত DI(S.E) বা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্কুলগুলির স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য দ্রুত DDO (Drawing and Disbursing Officer) নিয়োগ করতে হবে। মূলত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন, আর্থিক অনুমোদন এবং প্রশাসনিক খরচ চালানোর ক্ষেত্রে DDO অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে সভাপতির পদ খালি হলেও স্কুলের দৈনন্দিন কাজ যাতে থমকে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।

কারা ছিলেন PIE? (School Education)
‘পার্সনস ইন্টারেস্টেড ইন এডুকেশন’ বা PIE হলেন এমন কিছু ব্যক্তি, যাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ বা সামাজিক ভূমিকার ভিত্তিতে পরিচালন সমিতিতে রাখা হত। অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, সমাজকর্মী বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই পদে নিযুক্ত হতেন। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, বহু ক্ষেত্রে PIE পদকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এই পদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
শিক্ষা মহলে শুরু জোর বিতর্ক (School Education)
সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল পরিচালন সমিতিতে অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের বার্তা দিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচিত বা মনোনীত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কোন কোন দফতরে পাঠানো হয়েছে নির্দেশ? (School Education)
এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, স্কুল শিক্ষা কমিশনার, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, দ্রুত কার্যকর করার দিকেই এগোচ্ছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: ২৬টি কবিতায় কি ২৬-এর ভোটের অঙ্ক কষলেন মমতা

আগামী দিনে কী প্রভাব পড়তে পারে?
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বহু স্পনসর্ড স্কুলে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে পরিচালন সমিতি কীভাবে গঠন হবে, PIE পদ আদৌ ফিরবে কি না, কিংবা নতুন কোনও নিয়ম আনা হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে শিক্ষা মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের স্কুল প্রশাসনে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।



