Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক সময় সরস্বতী পূজা মানেই ছিল নতুন খাতা, কলম, বইয়ের স্তূপ। দেবীর পায়ের কাছে সাজিয়ে রাখা হতো বিদ্যার সব উপকরণ যেন আশীর্বাদের ছোঁয়ায় শুরু হয় নতুন শিক্ষাবর্ষ। কিন্তু সময় বদলেছে(Saraswati)।
ই খাতার পাশে ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল(Saraswati)
এখন সরস্বতী পুজোয় প্যান্ডেলে চোখ রাখলেই এক নতুন ছবি ধরা পড়ে বই খাতার পাশে কিংবা তার জায়গায় ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন, এমনকি হেডফোনও। প্রশ্ন উঠছে, পড়াশোনার উপকরণ কি সত্যিই বদলে গেছে?
ভরসা অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল নোটস, ইউটিউব টিউটোরিয়াল
আজকের ছাত্রছাত্রীদের কাছে শিক্ষা আর শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল নোটস, ইউটিউব টিউটোরিয়াল, এআই টুল, এই সবই এখন পড়াশোনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরস্বতী পূজোর দিনে ল্যাপটপে ফুল দিয়ে প্রণাম করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক। কারও কারও কাছে এটি কুসংস্কার ভাঙা নয়, বরং বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।
সব নোট গুগল ড্রাইভে
কলেজ পড়ুয়ারা বলছে, আমার সব নোট গুগল ড্রাইভে। কোডিং থেকে প্রেজেন্টেশন সব ল্যাপটপেই করি। খাতার বদলে ওটাই আমার বিদ্যার মাধ্যম। একই মত অনেক স্কুল পড়ুয়ারও। কোভিড পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল শিক্ষা যে কতটা গভীরে ঢুকে পড়েছে, সরস্বতী পূজোর এই বদলানো দৃশ্য তারই প্রমাণ।
খাতা-কলমের আলাদা আবেগ(Saraswati)
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে দ্বিমতও আছে। প্রবীণদের অনেকের মতে, খাতা-কলমের আলাদা আবেগ রয়েছে। হাতে লেখা, বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এসব ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রযুক্তি কি শিক্ষাকে সহজ করেছে, না মানুষকে আরও যান্ত্রিক করে তুলছে?
‘বদল’ নয়, বরং ‘বিস্তার’(Saraswati)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টা ‘বদল’ নয়, বরং ‘বিস্তার’। আগে শিক্ষা মানে ছিল বইকেন্দ্রিক জ্ঞান, এখন তা হয়েছে স্কিল-কেন্দ্রিক। ডিজিটাল ডিভাইস নিজে কোনো শত্রু নয়; ব্যবহারের উপরই সব নির্ভর করছে। তাই ল্যাপটপে পূজা দেওয়া মানে বিদ্যার অবমাননা নয়, বরং বিদ্যার নতুন রূপকে স্বীকৃতি দেওয়া।
আরও পড়ুন: Hiron: ভাইফোঁটার পর হিরণকে বিয়ে ঋতিকার: নেটপাড়া সরগরম সেই ছবিতেই
পূজোর মূল ভাবনা বদলায়নি(Saraswati)
আসলে সরস্বতী পূজোর মূল ভাবনা বদলায়নি। বিদ্যা, বুদ্ধি, সৃজনশীলতার আরাধনাই আসল। মাধ্যম বদলেছে মাত্র। আজ খাতা, কাল ক্লাউড-উদ্দেশ্য একটাই-শেখা। তাই সরস্বতীর পায়ে ল্যাপটপ থাকলেও প্রশ্নটা আর “ঠিক না ভুল” নয়। বরং প্রশ্নটা হলো আমরা কি এই প্রযুক্তিকে সত্যিই জ্ঞানের জন্য ব্যবহার করছি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে দেবীও নিশ্চয়ই হাসিমুখেই আশীর্বাদ দিচ্ছেন।



