Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এখন আর শুধুই একটি এলাকা নয় এখন তা আতঙ্ক (Anandapur Fire), হাহাকার আর নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারের প্রতীক। রবিবার গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি মোমো তৈরির কারখানা ও গুদাম। সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে সেই ভয়াবহ খবর পৌঁছতেই ভেঙে পড়ে বহু পরিবার। আনন্দপুর কার্যত রূপ নেয় এক ‘মৃত্যুপুরী’-তে।

স্বজনদের খোঁজে প্রহর গোনা অপেক্ষা (Anandapur Fire)
কারখানার সামনে এখন শুধুই কান্না আর অসহায় অপেক্ষা। স্বামী, ছেলে, ভাই কিংবা বাবার খোঁজে অস্থির চিত্তে দাঁড়িয়ে আছেন পরিবার-পরিজনেরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, তবে নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে আশঙ্কা মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পূর্ব মেদিনীপুরে আতঙ্কের ছায়া (Anandapur Fire)
এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নেই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্ক নেমে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৩ জন বাসিন্দা নিখোঁজ বলে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন, পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি, এই সব পরিবারে এখন কেবলই উৎকণ্ঠা। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি খবরের আশায় বুক বাঁধছেন স্বজনেরা। সময় যত এগোচ্ছে, কান্নার রোল ততই বাড়ছে গ্রামে গ্রামে।

দুর্ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উপস্থিতি (Anandapur Fire)
সোমবার দিনভর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশাসনের তরফে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল জানিয়েছেন, অনেক পরিবার সোমবারই দুর্ঘটনাস্থলে চলে এসেছেন। পুলিশ অফিসার, মহকুমা শাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনন্দপুরে ইতিমধ্যেই তিনজন আধিকারিক পৌঁছেছেন।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
অনুমোদনহীন কারখানা, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন
এই ভয়াবহ ঘটনার পর সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। জানা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া মোমো কারখানাটির দমকলের কোনও অনুমোদনই ছিল না। দেড়দিন পর দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর উপস্থিতিতে দমকল বিভাগের ডিজি নিজেই সেই কথা স্বীকার করেছেন। এই স্বীকারোক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন কীভাবে অনুমোদনহীন কারখানা চলছিল?
কোন চোখের আড়ালে গড়ে উঠেছিল এমন বিপজ্জনক কর্মক্ষেত্র? এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?



