Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অযোধ্যার রাম মন্দির যা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং কয়েক দশকের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অবশেষে সম্পূর্ণতার পথে (Ram Temple)। ভোটের মুখে অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই যে মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল, সেই নির্মাণকাজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যেই শেষ হতে চলেছে। রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই গোটা প্রকল্পের সমস্ত কাজ শেষ হবে।

ভোটের আগে উদ্বোধন (Ram Temple)
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই, গত বছরের ২২ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন করেন। সেই সময় মন্দিরের মূল কাঠামো সম্পূর্ণ না হওয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অসম্পূর্ণ মন্দিরে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত পুজো শুরু হওয়াকে ঘিরে প্রশ্ন তোলে একাংশের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনৈতিক দল। শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ কড়া ভাষায় বলেন, সম্পূর্ণ মন্দির নির্মাণের আগেই বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা শাস্ত্রবিরুদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে সরাসরি “ভোটের রাজনীতি” বলে আখ্যা দেয়।
চলেছে অসম্পূর্ণ মন্দিরে পুজো (Ram Temple)
উদ্বোধনের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে অসম্পূর্ণ মন্দিরেই চলেছে রামলালার পুজো। সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ থাকলেও, নির্মাণকাজ চলার কারণে একাধিক অংশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বারবার উঠেছে প্রশ্ন ধর্মীয় আস্থার নামে কি রাজনৈতিক তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল?

নির্মাণকাজের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা (Ram Temple)
শনিবার দু’দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের সমস্ত কাজ আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে।” বৈঠকে নির্মাণের অগ্রগতি, বাকি থাকা কাজের সময়সীমা এবং চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
টাটা কনসালটেন্সির ভূমিকা (Ram Temple)
নৃপেন্দ্র মিশ্র জানান, রাম মন্দির নির্মাণে যুক্ত দুই প্রধান সংস্থা, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো , টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাদের সমস্ত দায়িত্ব শেষ করবে। কাজ শেষ হলে তারা মন্দির কমপ্লেক্স ছেড়ে যাবে। পাশাপাশি, সমস্ত কাগজপত্রের নিষ্পত্তি, বকেয়া বিল পরিশোধ, চূড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া, এই সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
১,৯০০ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প
ব্যয়ের হিসেব তুলে ধরে নৃপেন্দ্র মিশ্র জানান, গোটা রাম মন্দির প্রকল্পের আনুমানিক খরচ: ১,৯০০ কোটি টাকা, ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে (জিএসটি-সহ): প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা, বাকি অর্থ নির্মাণের শেষ ধাপ ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বরাদ্দ থাকবে এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি মন্দির নয়, বরং বিশাল এক ধর্মীয় পরিকাঠামো হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে।
পুরনো বিতর্ক, নতুন অধ্যায়
রাম মন্দিরের উদ্বোধন থেকে নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই রাজনীতি ও ধর্মের সংঘাত স্পষ্ট। একদিকে সরকার ও সমর্থকদের দাবি এটি হিন্দু সমাজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ মন্দিরে উদ্বোধনের প্রশ্নে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা আগামীদিনেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



