Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত তিন দিন ধরে সোনা ও রুপোর দামে (Gold Rate) ধারাবাহিক পতন চলছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার পর ফের বড় ধস নামল সোনা ও রুপোর দামে। দেশীয় বাজারে এমসিএক্স (MCX)-এ সোনার ফিউচার ৩.২২ শতাংশ পড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ১০ গ্রামে ১.৪৩ লক্ষ টাকায়। একই সঙ্গে এমসিএক্স রুপোর ফিউচার নেমে এসেছে প্রতি কেজিতে ২.৪৮ লক্ষ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা প্রতি আউন্স প্রায় ৪,৬৬২ ডলারে এবং রুপো প্রায় ৭৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
কেন কমছে দাম? (Gold Rate)
এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক (Gold Rate) ধাতু বাজারে ব্যাপক বিক্রি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের নাম প্রস্তাব করার পর থেকেই এই বিক্রির চাপ শুরু হয়। কেভিন ওয়ারশকে সুদের হার নিয়ে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত মনে করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনা ও রুপোর মতো ধাতুর চাহিদা কমে যায়, কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন বন্ডের মতো বেশি রিটার্ন দেওয়া সম্পদের দিকে ঝোঁকেন।

এর পাশাপাশি শিকাগো মারক্যান্টাইল এক্সচেঞ্জ (CME) ধাতু ফিউচারের মার্জিন বাড়িয়েছে। মার্জিন বৃদ্ধির ফলে ট্রেডিং ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার জেরে বহু ট্রেডার তাদের অবস্থান ছাঁটাই করতে বাধ্য হন।
ভৌত সোনার বাজারে কী পরিস্থিতি? (Gold Rate)
ভারতের বড় শহরগুলিতে ভৌত সোনার দামও (Gold Rate) কিছুটা নরম হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও মেট্রো শহরগুলিতে ২৪ ক্যারেট সোনা এখনও প্রতি গ্রামে ১৫ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে চেন্নাইয়ে সোনার দাম সবচেয়ে বেশি।
সোনার তুলনায় রুপো বেশি পড়ল কেন?
সোনার তুলনায় রুপোর দরপতন বেশি হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপোর দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে, আর এমসিএক্স ফিউচারে পতন হয়েছে ৬.৪ শতাংশেরও বেশি। গত এক বছরে রুপোর পারফরম্যান্স সোনার তুলনায় ভালো ছিল। সেই কারণেই রুপোয় বেশি প্রফিট বুকিং হয়েছে, যার ফলেই দাম আরও জোরালোভাবে সংশোধনের মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: Mumbai Air Crisis: স্মগে ঢেকেছে মুম্বই, শ্বাসকষ্টে নাজেহাল শহর
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে কোন কোন কারণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলন এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মার্কিন উৎপাদক মূল্যস্ফীতির তথ্য-এই সবকিছু মিলেই মূল্যবান ধাতুর উপর চাপ বাড়িয়েছে। এর ফলে সোনা ও রুপোর ‘সেফ হেভেন’ আকর্ষণ কমে গেছে।

এবার বিনিয়োগকারীদের নজর কোথায়?
আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে জাপান, চিন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোজোন এবং আমেরিকার উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। এই তথ্যগুলি বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে।


