Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতোয়ার জেলায় (Operation Trashi) নিরাপত্তাবাহিনীর বড় সাফল্য। ‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’ অভিযানে তিনজন জঙ্গি খতম হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, তাদের মধ্যে একজনের নাম সইফুল্লা।
কিশতোয়ার এলাকায় ঘাঁটি (Operation Trashi)
সইফুল্লা বিগত দুই বছর ধরে কিশতোয়ার এলাকায় ঘাঁটি (Operation Trashi) গেড়েছিল। নিরাপত্তাবাহিনী বহুবার তার ওপর নজর রেখেও তাকে ধরে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছিল। অন্তত ২০ বার চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিল সে। তবে ‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’-এ তার অবস্থান চিহ্নিত করে, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে খতম করা সম্ভব হয়।
‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’ (Operation Trashi)
‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’-এ অংশ নিয়েছে ভারতীয় সেনা (Operation Trashi), জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ। নিরাপত্তাবাহিনী আগেই খবর পায় যে জঙ্গিরা চত্রু এলাকার একটি মাটির বাড়িতে লুকিয়ে আছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে অভিযান শুরু হয়। পাহাড়ি এলাকায় হলেও ওই মাটির বাড়িটি ছিল তুলনামূলকভাবে সমতল পাদদেশে। সেনার উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালিয়ে নিরাপত্তাবাহিনী দুই জঙ্গিকে খতম করে। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি একে৪৭ রাইফেল।

গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা (Operation Trashi)
অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় সেনার প্রশিক্ষিত (Operation Trashi) জার্মান শেফার্ড ‘টাইসন’-এর ভূমিকা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তৈরি জঙ্গিদের লুকোনো ডেরায় ঢুকে পড়ে সে। ঠিক সেই সময়ই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। গুলিতে আহত হয় টাইসন – তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু সেখানেই থামেনি সে। আহত অবস্থাতেই এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় সেনাকে। ফলে দ্রুত ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, এবং শেষ পর্যন্ত খতম করা হয় তিন জঙ্গিকে।

আহত টাইসন (Operation Trashi)
আহত টাইসনকে এয়ারলিফট করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল। টাইসনের এই সাহসিকতার কারণে অভিযানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এটি আবারও প্রমাণ করল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক অভিযানের সমন্বয় কেবল জঙ্গি দমনেই নয়, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত কার্যকর। টাইসনের মতো সাহসিকতার নজির আগেও দেখা গেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অপারেশন ফ্যান্টম-এ ‘ফ্যান্টম’ নামে এক বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া সেনা কুকুর নিজের হ্যান্ডলার ও সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিল। সেই অভিযানে শেষ পর্যন্ত জঙ্গিরা খতম হয়েছিল।
তিনজন জঙ্গি খতম
চলতি মাসের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি এনকাউন্টারে মোট তিনজন জঙ্গি খতম হয়েছে। উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী একটি গোপন আস্তানার খোঁজ পেয়েছিল, যেখানে দুজন জঙ্গিকে শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। অপারেশন কিয়া এবং ‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’—এই দুই অভিযানে খতম হয়েছে তিনজন, যাদের মধ্যে দুজন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য।

আরও পড়ুন: Rekha Gupta: ‘ভাইয়া গেল, এ বার দিদি?’-মমতাকে নিশানা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর!
সেনা সূত্রের মতে, সইফুল্লা অন্তত ২০ বার নিরাপত্তাবাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পিত অভিযানের ফলে তাকে শেষ পর্যন্ত দমন করা সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর এই সফল অভিযান আবার প্রমাণ করল যে, প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক অভিযানের সমন্বয় জঙ্গি দমন অভিযানকে কতটা কার্যকর করে। ‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’ শুধু কিশতোয়ার জেলায় নয়, পুরো জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও একটি বার্তা দিয়েছে—নিরাপত্তাবাহিনী ও তাদের প্রশিক্ষিত সহযোদ্ধারা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত।


