Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র ৩৮ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন রব জেটেন (Netherlands)। তিনি শুধু ডাচ রাজনীতির কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীই নন, বরং প্রকাশ্যে সমকামী পরিচয় নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসা এক সাহসী রাজনৈতিক মুখ। তাঁর এই উত্থান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং ইউরোপীয় উদার রাজনীতির এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।

‘সংখ্যালঘু’ সরকারের জন্ম (Netherlands)
ডাচ সংসদের নিম্নকক্ষে মোট ১৫০টি আসন। তার মধ্যে ৬৬টি আসন পেয়েছে জেটেনের দল Democrats 66। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে শুরু হয় টানা ১১৭ দিনের জটিল আলোচনাপর্ব। শেষ পর্যন্ত Christian Democratic Appeal এবং People’s Party for Freedom and Democracy–র সঙ্গে জোট বেঁধে গঠিত হয় নতুন সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতা, মতাদর্শগত সমন্বয় এবং নীতিগত ছাড়–সব মিলিয়ে এই জোট সরকার গঠন ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। এই প্রেক্ষাপটে জেটেনের শপথ গ্রহণ ডাচ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার নতুন বার্তা বহন করছে, যদিও বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের চাপ ও সংসদীয় সমীকরণ সামলানো সহজ হবে না।
ছাত্ররাজনীতি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি (Netherlands)
রব জেটেনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় এক দশক আগে। ৩১ বছর বয়সেই তিনি সংসদীয় দলের নেতা হন যা নিজেই এক বিরল কৃতিত্ব। পরবর্তীতে পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে জলবায়ু ও সবুজ শক্তি সংক্রান্ত নীতিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দুই বছর আগে উপপ্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা আরও স্পষ্ট হয়। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে তিনি প্রমাণ করলেন তরুণ নেতৃত্বও জাতীয় রাজনীতিতে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সামাজিক প্রতীকী গুরুত্ব (Netherlands)
রব জেটেন নিজের সমকামী পরিচয় কখনও গোপন করেননি। আর্জেন্টিনার হকি খেলোয়াড় Nicolás Keenan–এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে তাঁদের বাগদানও সম্পন্ন হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চর্চা হয়। তবে অনেকের মতে, এই স্বচ্ছতা ও আত্মবিশ্বাসই আধুনিক ইউরোপীয় রাজনীতির পরিচায়ক। নেদারল্যান্ডসের এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের কাছে জেটেন আজ এক প্রেরণার নাম প্রমাণ করে দিয়েছেন, যৌন পরিচয় নয়, নেতৃত্বের গুণই আসল পরিচয়।
ভারত-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ক (Netherlands)
জেটেনের ঐতিহাসিক সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ভারতের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য, জলব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ফলে জেটেনের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
আরও পড়ুন: Tram: ১৫৩ বছরে পা, যুদ্ধদিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে ট্রামের পথচলা
সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়
তবে পথ মসৃণ নয়। সংখ্যালঘু সরকারের সীমাবদ্ধতা, জোটসঙ্গীদের মধ্যে মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক চাপ, অভিবাসন নীতি এবং জলবায়ু সংকট সব মিলিয়ে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিরোধী দলগুলি সংসদে প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। তবুও তরুণ উদ্যম, উদার মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতা এই তিন শক্তিকেই ভরসা করে এগোতে চাইছেন জেটেন।



