Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী ও স্বচ্ছ করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ পরিষেবা (Sorasori Mukhyomantri)। সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা ও পরামর্শ জানাতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। কিন্তু সম্প্রতি এই পরিষেবার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জনসংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম (Sorasori Mukhyomantri)
‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ শুধুমাত্র একটি অভিযোগ গ্রহণের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি সরকার ও নাগরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতুবন্ধন। বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চল থেকে নাগরিকেরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ এই মাধ্যমে জানাতে পারেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই পরিষেবার উপস্থিতি গড়ে তোলা হয়। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে একটি অফিসিয়াল পেজ খোলা হয়, যেখানে নাগরিকদের বার্তা গ্রহণ ও বিভিন্ন সরকারি আপডেট শেয়ার করা হত।
একাধিক অনুমোদনহীন মেসেজ (Sorasori Mukhyomantri)
অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, রাত ২টা ৬ মিনিট থেকে ২টা ১৯ মিনিটের মধ্যে প্রথম দফায় একাধিক অনুমোদনহীন ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টা ১১ মিনিট থেকে ৯টা ২২ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় মেসেজ পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে মোট ৪৭টি অননুমোদিত ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানো হয়েছে।, ইনস্টাগ্রামে দুটি স্টোরিও আপলোড করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সরকারি সংস্থাগুলিকে লক্ষ্য করে বার্তা (Sorasori Mukhyomantri)
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, হ্যাকাররা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থাকে মেসেজ পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, এগিয়ে বাংলা, কলকাতা পুলিশ, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ, এতে বোঝা যাচ্ছে, হ্যাকারদের লক্ষ্য ছিল শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
কীভাবে ভাঙল সুরক্ষা? (Sorasori Mukhyomantri)
অভিযোগকারী সংস্থা পুলিশকে জানিয়েছে, এই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলি অনুসরণ করা হয়। মাত্র তিনটি নির্দিষ্ট ডিভাইস থেকে লগইন করা সম্ভব, একটি সরকারি মোবাইল ফোন, একটি নির্দিষ্ট ল্যাপটপ, একটি অফিস ডেস্কটপ, অর্থাৎ অনুমোদিত ডিভাইসের বাইরে থেকে প্রবেশের সুযোগ থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও কীভাবে হ্যাকিং সম্ভব হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ফিশিং আক্রমণ, ম্যালওয়্যার সংক্রমণ, বা পাসওয়ার্ড চুরি সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ (Sorasori Mukhyomantri)
হ্যাকিংয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপরতা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে, অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়, লগইন কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হয়, ইলেকট্রনিক রেকর্ড, স্ক্রিনশট ও টাইমস্ট্যাম্প সংরক্ষণ করা হয়, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ডিজিটাল যুগে প্রশাসনিক প্ল্যাটফর্মগুলির সুরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পরিষেবা যখন ক্রমশ অনলাইনে নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, তখন সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কেবল তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়, বরং তা সরকারের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।



