Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দোল ও হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে কলকাতা শহরকে। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়, তার জন্য লালবাজারের তরফে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন পদক্ষেপ(Holi Security)। এবারের উৎসবের ঠিক পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, তাই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
পুলিশি মোতায়েন ও টহলদারি (Holi Security)
মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার দিন কলকাতার রাস্তায় নামছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ কর্মী। নিরাপত্তার তদারকিতে সরাসরি রাস্তায় থাকবেন কলকাতা পুলিশের ২৬ জন ডিসি (DC) পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিক। তাদের অধীনে থাকবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টররা। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোট ৩৫০টি পুলিশ পিকেট তৈরি করা হয়েছে এবং অলিগলিতে নজরদারির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪৪টি টহলদার বাইক বাহিনী।
অনিচ্ছুক ব্যক্তি ও পশু সুরক্ষা
লালবাজারের তরফে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে জোর করে রং মাখানো যাবে না। এমনকি এবার পথকুকুর বা অন্য কোনো পশুকে রং দেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চলন্ত গাড়ি বা বহুতল আবাসন থেকে পথচারীদের লক্ষ্য করে রং বা বেলুন ছোড়া আটকাতে বিশেষ নজরদারি চালাবে পুলিশ। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য শহরের বিভিন্ন পার্কে ও জনবহুল এলাকায় মোতায়েন থাকবে বিশেষ ‘উইনার্স’ / Winners বাহিনী।
গঙ্গার ঘাট ও বিপর্যয় মোকাবিলা
উৎসবের দিন গঙ্গার ঘাটগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। শহরের মোট ৭০টি গঙ্গার ঘাটে মোতায়েন থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা দল (DMG)। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘাটে উপস্থিত থেকে নজরদারি চালাবেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যায় পিসিআর ভ্যানও শহরজুড়ে টহল দেবে।
নির্বাচনী আবহে ‘অন রোড পুলিশিং'(ORP) (Holi Security)
সামনে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ায় কোনোভাবেই যাতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার নিজেই রাতের শহর পরিদর্শনে বেরোচ্ছেন। বর্তমানে চালু হয়েছে ‘অন রোড পুলিশিং’ (ORP) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে কোনো নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই হঠাৎ করে (Surprise Element) ওসি, এসি ও ডিসি পদমর্যাদার অফিসাররা দল বেঁধে রাস্তায় নেমে নাকা চেকিং ও তল্লাশি চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: EC Force: ভোটের আগে রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় বাহিনী: পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ কমিশনের
দুষ্কৃতীদের মনে ভয় ধরাতে সারপ্রাইজ ভিজিট (Holi Security)
পুলিশ কমিশনারের মতে, নির্বাচনের আগে নাকা চেকিংয়ের পরিমাণ যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই দুষ্কৃতীদের মনে ভয় ধরাতে এই সারপ্রাইজ ভিজিট অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরানো এবং উৎসব ও ভোটের প্রাক্কালে শহরকে নিরাপদ রাখাই এখন কলকাতা পুলিশের মূল লক্ষ্য।



