Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭ রানে জয় পেলো ভারত। দুরন্ত ক্যাচ নিলেন অক্ষর প্যাটেল। তবে মন জয় করলেন ইংল্যান্ডের তরুণ ব্যাটার বেথেল (IND vs ENG)।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত (IND vs ENG)
ইংল্যান্ড অধিনায়ক টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। আখেরে তাতে লাভ হয় ভারতের। শুরু থেকেই আক্রমণের পথ বেছে নেন ভারতীয় ব্যাটাররা। শুরু থেকেই আগুনে মেজাজে ২২ গজ শাসন করতে নামেন সঞ্জু (IND vs ENG)।
তবে এই ম্যাচেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন অভিষেক শর্মা, অফ স্পিনে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফেরার। অভিষেকের টানা ব্যর্থতা ভারতের এখন সব থেকে বড় মাথা ব্যথার কারণ। তাঁর আক্রমণাত্মক ভঙ্গির নয় বরং প্রশ্ন উঠছে তাঁর শট বাছাই এবং দায়িত্বজ্ঞানের অভাব নিয়ে।
১৫ রানে জোফ্রা আর্চারের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রুক। তারপর আর ভাবতে হয়নি তাঁকে। একা হাতে মাঠ শাসন করলেন সঞ্জু। বাজ বল ক্রিকেট যেন নখদর্পণে। ইংল্যান্ডের বাজ বল ক্রিকেটের অহংকার ভাঙলেন নিজের দক্ষতায়। ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ভারতের স্কোর বোর্ড শক্ত করে গেলেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি এডিশনে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে। ১৫টি মেরেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁকে টপকে গেলেন সঞ্জু। ১৬তে পৌঁছে গেলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে।
আরও পড়ুন: IND vs ENG: বাজ বলের দাপট ফিকে সঞ্জুর তাণ্ডবে
তবে সঞ্জুর সাথে যোগ্য সঙ্গত দিলেন ঈশান কিষাণ। ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ফিরলেন সাজঘরে। এরপর শিবম দুবেও ভয় ডর ইনিংস খেলে ভারতের রান আরও এগিয়ে দিলেন। তিঁনি আউট না হলে স্কোর বোর্ড কোথায় থামতো সেটা বলা কঠিন। এরপর তিলক বর্মা এবং হার্দিক নিজেদের দায়িত্ব পালন করে মাঠ ছাড়লেন। ভারতের স্কোর তখন ২০ ওভার শেষে ২৫৩ (IND vs ENG)।
রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের যে ব্যাটারদের নিয়ে সবথেকে বেশি চিন্তা ছিল তাঁরা না পারলেও এই ম্যাচে মরণ কামড় বসিয়ে গেলেন বেথেল। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন একাই তিনি। বরুণ চক্রবর্তীর ওভারে চার চয়ের বন্যা বইয়ে দিলেন তিনি। মাঠের সব দিকে সবরকম শট খেলে গেলেন শেষ পর্যন্ত। কোনও বোলারকেই রেয়াত করলেন না এই ম্যাচে। ইংল্যান্ড ম্যাচ হারলেও মন জয় করে গেলেন এই তরুণ ব্যাটার। ৪৮ বলে তাঁর ১০৫ রানের ইনিংস মনে থেকে যাবে ক্রিকেট ভক্তদের (IND vs ENG)।
ভারতের হয়ে রান খরচের দিক থেকে দেখতে গেলে সবচেয়ে সফল বলার বুমরা। এক উইকেট নিলেন তিনি। অন্যদিকে দুই উইকেট নিলেন হার্দিক। তবে এই ম্যাচে অক্ষর প্যাটেল দুটি অনবদ্য ক্যাচ নিয়েছেন যা ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ম্যাচ সেরা সঞ্জু।
এক সময় খেলা ভারতের হাত থেকে বাইরে চলে গিয়েছিল। ভারতকে আবার ম্যাচে ফেরায় সেই বুমরা। ১৮ ওভারে তিনি মাত্র ৬ রান খরচ করেন আর সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। নাহলে আজ এই ম্যাচেই ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যেত। একদিকে অভিষেক শর্মার ফর্ম যেমন চিন্তার তার থেকেও বড় চিন্তা ভারতের বোলিং। বরুণ চক্রবর্তী উইকেট পেলেও যা রান খরচ করছেন তাতে বিপক্ষ ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার বদলে আরও চেপে বসছে। অন্যদিকে অর্শদীপ সিংও কার্যকরী হচ্ছেন না একদিকে যেমন তাঁকে পিটিয়ে ছাতু করছেন তেমনই দিচ্ছেন অতিরিক্ত রান। এখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি সিরাজকে সুযোগ দেওয়া উচিত ফাইনালে নাকি উইনিং কম্বিনেশনের উপরই ভরসা রাখবেন গম্ভীর?
বিশ্বকাপের খেতাব জয়ের থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে ভারত। তবে নিউ জিল্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে ভারতকে। এখন দেখার বোলিং দুর্বলতা কাটিয়ে কতটা শক্তিশালী দল হিসেবে ফাইনালে ঝাঁপাতে পারে টিম ইন্ডিয়া এবং শেষ পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করতে পারে কিনা (IND vs ENG)।


