Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে । বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেশ করতে বিধানসভায় হাজির হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী (Menaka Guruswamy)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সঙ্গিনী Arundhati Katju। গোলাপি শার্ট ও ছাই রঙের ব্লেজারে সজ্জিত মেনকার উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার পরিসর।

তৃণমূলের চমকপ্রদ প্রার্থী তালিকা (Menaka Guruswamy)
সম্প্রতি আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে All India Trinamool Congress। সেই তালিকায় ছিল এক বড় চমক মেনকা গুরুস্বামীর নাম। তাঁর সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেত্রী Koel Mallick, প্রাক্তন আমলা Rajeev Kumar এবং গায়ক-রাজনীতিবিদ Babul Supriyo। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেনকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী করা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করে আসছেন।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন (Menaka Guruswamy)
সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী হিসেবে মেনকা গুরুস্বামী বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে নাগরিক অধিকার, সংবিধানিক স্বাধীনতা এবং লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। ভারতের আইন ও সমাজে বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আইনজীবী হিসেবে তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি ভারতের সংবিধান, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের বিষয় তুলে ধরেছেন।
ব্যক্তিগত পরিচয়ের সাহসী ঘোষণা (Menaka Guruswamy)
মেনকা গুরুস্বামীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হল তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী হিসেবে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি তাঁর সঙ্গিনী অরুন্ধতী কাটজুর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। ভারতীয় সমাজে যেখানে এখনও অনেক ক্ষেত্রে সমকামিতা নিয়ে সামাজিক সংকোচ রয়েছে, সেখানে প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচয়। রাজনীতিতে এমন উদাহরণ খুবই বিরল। সেই দিক থেকে মেনকার সম্ভাব্য সংসদে প্রবেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস (Menaka Guruswamy)
ভারতের সংসদে এতদিন পর্যন্ত ঘোষিতভাবে সমকামী পরিচয়ের কোনও সাংসদ ছিলেন না। তাই মেনকা গুরুস্বামীর রাজ্যসভায় প্রবেশ হলে তিনি দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী সাংসদ হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। বিশ্বের বহু দেশে ইতিমধ্যেই প্রান্তিক লিঙ্গ ও যৌনতার মানুষ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমকামী বা এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বেও এসেছেন। নেদারল্যান্ডস সম্প্রতি পেয়েছে সমকামী প্রধানমন্ত্রী। অতীতে আইসল্যান্ড, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ড এবং সার্বিয়ার মতো দেশেও রাষ্ট্রপ্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রান্তিক লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ দেখা গিয়েছে। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলিতে এমন নজির তুলনামূলকভাবে কম। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের মতো বৃহৎ গণতন্ত্রে এই পরিবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাজনৈতিক তাৎপর্য
তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। রাজনীতিতে বহু দলই সমতা, বৈচিত্র্য এবং মানবাধিকারের কথা বললেও বাস্তবে সেই প্রতিনিধিত্ব খুব কমই দেখা যায়। এই অবস্থায় মেনকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী করা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষমতার কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির বার্তা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



