Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে সহজ জয় আসেনি ভারতের। রানের ভিত যেরকম গড়েছেন সঞ্জু তেমন সেই রান রক্ষা করেছেন বুমরা (Jasprit Bumrah)। অতিমানব বুমরার কাছে থামতে হলো ইংল্যান্ডকে।
‘অতিমানব’ বুমরা (Jasprit Bumrah)
বিশ্বকাপের মঞ্চ কুরুক্ষেত্রের থেকে কম কিছু না। ভারতের ফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় নিয়ে যেমন একদিকে চর্চা চলছে তেমনই এই বিশ্বকাপে বেথেলের ইনিংসও লেখা থাকবে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংসগুলির মধ্যে। কুরুক্ষেত্রে যেমন কর্ণকে মানুষ মনে রেখেছেন ট্র্যাজিক হিরো হিসেবে তেমনই এই বিশ্বকাপে বেথেলকে মনে রাখা হবে। অথবা ট্রয়ের হেক্টর, যিনি হেরে গেলেও মন জয় করে নিয়েছেন মানুষের। কিন্তু বিপক্ষ দলের যখন প্রধান অস্ত্র বুমরা তখন সেই প্রাচীরের কাছে থামতে হয় বেথেলের মতো যোদ্ধাদেরও। মানবিক এই খেলায় বুমরা সেই অতিমানবের নাম, যার একটা ওভার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেই কথাই শোনা গেল ম্যাচ সেরা সঞ্জুর মুখে (Jasprit Bumrah)।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ যে টানটান হতে চলেছে সেটা প্রথম থেকেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। তবে ২৫০ প্লাস রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যে ভারতের আকাশে বেথেল এই ভাবে কালো ঝড়ের মতো তাণ্ডব চালাবেন সেটা বোঝা যায়নি বা বলা ভাল আশা করেননি কেউ। একদিকে যখন ইংল্যান্ডের তাবড় তাবড় ব্যাটার পরাস্ত হচ্ছেন তখন বেথেল একা প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। শুধু তুললেন না বরং ভারতকে নিয়ে এনে ফেললেন এক নিষ্ঠুর বাস্তবের সামনে। বুমরাহীন ভারতীয় বোলিং যে এই মুহূর্তে দুঃস্বপ্নের সমান সেটাও বুঝিয়ে দিলেন সেমিফাইনাল ম্যাচে (Jasprit Bumrah)।

প্রথমে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সঞ্জুকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই পাওয়া যায়। এই দিন আশা করা হচ্ছিলো অভিষেক শর্মা তাঁর অফ ফর্মের থেকে বেড়িয়ে কার্যকরী হবেন তবে সেটা হলো না। শুরু করলেও অফ স্পিনের বিরুদ্ধে পরাস্ত হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। সঞ্জু যখন ১৫ রানে সেই সময় তাঁর ক্যাচ ফেলেন ব্রুক। আর তারপর সঞ্জুকে ফিরে তাকাতে হয়নি। আগুনে মেজাজে খেলে গেলেন ৮৯ রানের ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার এইটে ৯৭ রানের পর ৮৯ রানের ইনিংসই প্রমাণ করে দেয় তাঁর দক্ষতার (Jasprit Bumrah)।

একসময় যাকে ডাগ-আউটে বসে অপেক্ষা করতে হয়েছে দিনের পর দিন সুযোগ পাওয়ার জন্য আজ তাঁর ব্যাটিংয়ের কল্যাণেই ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত। তবে তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবেরও অবদান রয়েছে ভারতের মোট ২৫৩ রানের মধ্যে।

এই লক্ষ্য মাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুতে মনে হচ্ছিল ম্যাচের ফলাফল ভারতের পক্ষে আসতে পারে। উইনিং পার্সেন্টেজও তখন সেই সময় এই কথাই বলছে। কিন্তু ইংল্যান্ড দলের প্রথম তিন ব্যাটার যেকোন সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন সেই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। সল্ট ফিরে যান ৫ রানে। বাটলার ফেরেন ২৫ রানে। কিন্তু তখনও ভয়ের নাম ব্রুক রয়েছেন যিনি এই বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। কিন্তু পঞ্চম ওভারে নিজের প্রথম ওভার বল করতে আসেন ভারতের বোলিং স্তম্ভ বুমরা। আর ব্রুককে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে ভারতকে অক্সিজেন দেন।
কিন্তু সেই সময় থেকেই লেখা হতে থাকে এক টানটান থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্য। যে চিত্রনাট্যে হিরো জেকব বেথেল। বরুণ চক্রবর্তীকে তিনি হানেন প্রথম আক্রমণ। ভারতের স্পিন ভরসাকে একের পর এক বলে পাঠিয়ে দিতে থাকেন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। তারপর বাদ দেননি কাউকেই। ধীরে ধীরে তিনি যেন তখন অপরাজিত এক যোদ্ধা। তাঁকে প্রতিহত করার মতো কোনও অস্ত্রই তখন ভারতের অস্ত্র ভাণ্ডারে নেই। এক সময় খেলা ভারতের হাতের বাইরে। ভারতীয় সমর্থকদের হার্ট বিট তখন আকাশ ছুঁয়েছে (Jasprit Bumrah)।

বলা যায় ভারতের বোলিংয়ের চার জন পান্ডব তখন পরাস্ত। অধিনায়ক সূর্য সেই সময় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। আর সেই সময় বলের দায়িত্ব যায় ভারতের অন্যতম পান্ডব বাবুমরার হাতে। ভারতের শেষ ভরসা। ডেথ ওভারে সেই বুমরা নিজের ক্ষমতা দেখালেন। ১৬ তম ওভারে ৮ রান এবং ১৮ তম ওভারে ৬ রান, সেই ওভারে আবার একটা ডট বল। এই দুই ওভারেই খেলা তখন ভারতের দিকে। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা চাপে। ম্যাচ জিতে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে কেন আজও তাঁর ভরসায় ভারত কোনও প্রকার রণে ভঙ্গ দেয় না। বরং বিপক্ষের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে এনে বুমরা এক ‘অতিমানব’ (Jasprit Bumrah)।

আরও পড়ুন: IND vs ENG T 20 WC: তারকায় ভরা গ্যালারি, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হাজির ছিলেন কারা?
ম্যাচ সেরা সঞ্জু সেই কথাই বললেন ম্যাচের শেষে। সঞ্জু বলেন, ‘ম্যাচ জিতে খুবই ভাল লাগছে। আগের ম্যাচে আমার ফর্ম ভাল ছিল, আমি চেষ্টা করেছি সেটা ধরে রাখতে। আমি নিজেকে সময় দিলাম, তার পর বলগুলো ব্যাটে আনায়াসেই লাগতে শুরু করল। আমি দীর্ঘ ইনিংস খেলতে চেয়েছিলাম। পরিস্থিতি সঙ্গ দিয়েছে। এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি। তবে এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব বুমরার। ও ভাল বোলিং না করলে হয়তো আমার এই ইনিংস কাজে লাগত না। আমি আমার অবদান দিতে পেরেছি, তাতে খুব খুশি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পুরো কৃতিত্ব জশপ্রীত বুমরার। যে ভাবে ও বল করল, তা এক কথায় অসাধারণ। এ রকম বোলার লাখে একজনই হয়। আমার মতে, ম্যাচের সেরার মেডেলটা ওরই পাওয়া উচিত ছিল। ২৫০ রান করেও তো হেরে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বুমরার চার ওভার আমাদের জিতিয়ে দিল। ওই চার ওভার না হলে আমরা হেরে যেতাম।’ সঞ্জুর এই কথার সাথেও সহমত হবেন সকল ক্রিকেট সমর্থক থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে ফাইনালে কিন্তু ভারতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সুতরাং এই জয়ে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা ভারতের নেই (Jasprit Bumrah)।


