Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ম্যাচে ভারতীয় প্লেয়ারদের এমন কিছু অবদান আছে যা অনস্বীকার্য, যার মধ্যে অক্ষর প্যাটেলের দুটি অসাধারণ ক্যাচ লেখা থাকবে মুম্বইয়ের আকাশে (Axar Patel)।
দুটি অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে অকপট অক্ষর (Axar Patel)
রিলে রেসের দৌড় কমবেশি সবার দেখা। সেখানে ব্যাটন একজন প্লেয়ারের হাত থেকে আরেকজনের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই যেন প্রাণপাত করেন সেই দেশের প্লেয়াররা। একসময় ভারতীয় ক্রিকেটে ফিল্ডিং নিয়ে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা নিয়ে আজও চর্চা চলে। চর্চা না বলে বিতর্ক বললেও ভুল হবে না। কারণ একসময় ভারতীয় ফিল্ডিংয়ের স্বার্থে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা আজও সোজা চোখে দেখেন না অনেকে। তবে ফিল্ডিংয়ের স্বার্থে কিছু প্লেয়ারের উপর ভারতীয় বোর্ডের আস্থা হারানোর ঘটনা ঠিক না ভুল সেই বিচার করবেন ক্রিকেট সমর্থকরা (Axar Patel)।
একসময়ের রবিন সিং, জাদেজা তার পরবর্তীতে যুবরাজ সিং, কাইফ এইভাবে ব্যাটন এসেছে বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা, সুরেশ রায়নাদের হাতে। সেই সময় ভারতের ফিটনেস লেভেল বাড়ানোর জন্য আরও কঠিন অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। এখন সেই একই ফিটনেস টেস্ট দিয়েই দলে সুযোগ পেতে হয় সব ক্রিকেটারদের। আর ফিটনেস যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার প্রমাণ আজ স্পষ্ট। একটা ক্যাচ যে ম্যাচের অভিমুখ তৈরি করে দেয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ শুরু এবং শেষ হয় ক্যাচ দিয়ে। একটা ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হলো একটা দলকে আর অন্যদিকে দুটি অনবদ্য ক্যাচ দলকে এনে দিলো ফাইনালের টিকিট। ১৫ রানে থাকা সঞ্জুর ক্যাচ মিস যে ইংল্যান্ডকে বহুদিন দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই ক্যাচ মিস হওয়ার পর সঞ্জু ইংল্যান্ডের বোলারদের থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আগুনে মেজাজে একের পর এক বলে ঠিকানা লিখে দিচ্ছেন কেয়ার অফ প্যাভিলিয়ান। ৮৯ রানে যখন তিনি ফিরলেন ভারত তখন শক্ত রানের ইমারত গড়ে ফেলেছে (Axar Patel)।

ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের নিয়ে ভারতের চিন্তার শেষ থাকতো না যদি না ভারতের অস্ত্র ভাণ্ডারে বুমরা নামক ব্রহ্মাঅস্ত্র থাকতো। তবে বোলিং যতটা যাই করুক না কেন ফিল্ডিং শক্ত না হলে অনায়াসে কিছু রান ব্যাটাররা স্কোর বোর্ডে যোগ করে অহংকারের চওড়া হাসি হাসবে। কিন্তু সেই সুযোগ এলো না ইংরেজদের। বল হাতে দলের সহ অধিনায়ক খুব একটা দাগ কাটতে না পারলেও ফিল্ডিংয়ে পুষিয়ে দিলেন সবটা (Axar Patel)।

কিছু সময় দলের প্রধান সেনাপতির থেকে বেশি কৃতিত্ব রাখনে তাঁর কোনও এক পেয়াদা। ৬৪ খোপের খেলায় প্রতিটা সেপাই নিজেদের ছোট ছোট পদক্ষেপ রাখে কিন্তু একটু ভুল হলেই বোর্ডের বাইরে। আর ইংল্যান্ডের ম্যাচে ভারতের কাছে ভুলের কোনও সুযোগ ছিল না। ক্যাচ কঠিন হতে পারে কিন্তু মিস করলে তা হতো ক্ষমাহীন অপরাধ। যে ভুল ব্রুক করেছেন সেই ভুল করেননি অক্ষর। হ্যারি ব্রুক এবং উইল জ্যাকসের আউটের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রধান। দুটি ক্যাচ কঠিন ছিল কিন্তু অক্ষর জানেন এই সুযোগ, ভুলের কোনও জায়গা নেই। ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তালুবন্দি করলেন বল। বাকিটা সবাই জানেন (Axar Patel)।

ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় পয়েন্টে ফিল্ডিং করছিলেন অক্ষর। বোলিংয়ে তখন বুমরা। ব্যাট হাতে অপেক্ষা করছেন ব্রুক। এই দৃশ্য যখন মঞ্চস্থ হচ্ছে তখন দর্শকাসনে তারকাদের ভিড়। যার মধ্যে ভারতের দুই বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও রয়েছেন। সমর্থকদের চিৎকার তখন ডেসিবেল ছাড়িয়েছে। এমন সময় বুমরার বলে তুলে শট মারেন ব্রুক। প্রায় ২৪ মিটার পিছনে বলকে লক্ষ্য করে ছুটে যাচ্ছেন অক্ষর। বল তালু বন্ধি করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, না কোনও মিস হয়নি। ব্রুক ফিরে যাচ্ছেন তাঁর শিবিরে ৭ রান করে। ৫.৪ সেকেন্ডে নেওয়া এই ক্যাচ যেন এক উড়ন্ত মহাকাব্য (Axar Patel)।

এরপর ইংল্যান্ড থামার পাত্র নয়। বাজ বলের চেহারার নাম তখন বেথেল। বোলাররা লাইন লেংথ গুলিয়ে ফেলেছেন। ভারত দিশাহীন। বুমরা আবার ত্রাণকর্তা। ১৬ ওভার এবং ১৮ ওভারে খেলার অভিমুখ আবার ফেরালেন ভারতের দিকে। কিন্তু তার আগেও একটা ওভার এই ম্যাচ জয়ের রাস্তায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
১৪ তম ওভারে অর্শদীপের বলে ছয় মারার চেষ্টায় জ্যাকস। প্রায় মেরেও দিয়েছিলেন কিন্তু ডিপ কভারে তখন অক্ষর। বাঁদিক বেশ কিছুটা দৌড়ে বাউন্ডারি লাইনের একদম ধরে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ প্রায় তালুবন্দি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ তখন তাঁর হাতের বাইরে। কিন্তু ওই যে ভুলের কোনও সুযোগ নেই। বল বাউন্ডারি লাইন পার করার আগে অক্ষর বল ছুঁড়ে দিলেন শিবম দুবের হাতে। জ্যাকসের ক্যাচ সম্পূর্ণ করেন শিবম। ইংরেজ ব্যাটারকে আউট করা ফিল্ডার হিসাবে পরিসংখ্যানে শিবমের নাম লেখা থাকলেও ক্যাচটির আসল কৃতিত্ব অক্ষরেরই। যার পরেই অনেকের মনেই ভেসে উঠেছে সূর্যকুমার যাদবের একই কায়দায় ধরা ক্যাচ (Axar Patel)।
তবে এই দুই ক্যাচের মধ্যে ব্রুকের ক্যাচকেই এগিয়ে রাখছেন অক্ষর। ম্যাচের পর পার্থিব প্যাটেলের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ব্রুকের ক্যাচটা আমার বেশি প্রিয়। কারণ ওই ক্ষেত্রে আমাকে বলের গতির দিকে মুখ করে দৌড়োতে হয়েছে। বলের উপর ভাল ভাবে চোখ রাখা কঠিন হয়। এই ধরনের ক্যাচ ধরা সবচেয়ে কঠিন। আপনারা রিপ্লে দেখলে বুঝতে পারবেন, ক্যাচটা ধরার ঠিক আগে আমি একটু থমকেও গিয়েছিলাম। বলটা দেখার জন্যই থেমেছিলাম। যাতে না বলের আগে চলে যাই। তাছাড়া সে সময় বেশ চাপ ছিল। সব মিলিয়ে ওই ক্যাচটাই আমার বেশি প্রিয়।’
জ্যাকসের ক্যাচ নিয়ে অক্ষর বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমি পাশের দিকে দৌড়োচ্ছিলাম। প্রথমটার মতো বলের দিকে পিছন করে নয়। দ্বিতীয় ক্যাচটাও নিঃসন্দেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল পৌঁছোতে পারব না। পরে মনে হল, চেষ্টা করলে পৌঁছোতেও পারি। ওই ক্যাচটার জন্য শিবমকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ও সময় মতো একদম কাছে চলে এসেছিল। অথচ আমার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়নি। ক্যাচটা ধরার পর দেখলাম, আমি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাচ্ছি। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে তখন। শিবম কাছে থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে গিয়েছিল।’ এই দিন অক্ষর প্রমাণ করে দিলেন ‘Catches win matches’ (Axar Patel)।


